রিয়াল মাদ্রিদ কি ধ্বংসের পথে? সাত ম্যাচে মাত্র দুটি জয়—লা লিগায় পাঁচ ম্যাচে মাত্র একটি জয়—এমন ভয়ংকর পরিসংখ্যান রিয়ালের ক্ষেত্রে খুব কমই দেখা গেছে। বার্নাব্যুর দর্শকেরা হতবাক, কোচ জাবি আলোনসোর ভবিষ্যৎ নিয়ে গুঞ্জন তুঙ্গে। প্রশ্ন উঠছে—রিয়ালের এই পতনের মূল কারণ কোথায়?
শুরুতেই বড় সমস্যা—নেতৃত্বের অভাব। অতীতের রিয়াল যেখানে রোনালদো–রামোস–বেনজেমার মতো মাঠের যোদ্ধাদের নেতৃত্বে দাপিয়ে বেড়াত, আজকের রিয়ালে সেই আগুন নেই। সেল্তা ভিগোর কাছে ২–০ গোলের লজ্জাজনক হারেও দেখা গেল—পিছিয়ে পড়ার পর কেউ সতীর্থদের একত্রিত করছে না, কেউ নির্দেশ দিচ্ছে না, কেউ গর্জে উঠছে না। যেন দলটা নিজেরাই জানে—ওদের পক্ষে আর ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়।
চোটের তালিকাও ভয়ংকর। ডিফেন্সের প্রায় অর্ধেক খেলোয়াড় নিয়মিত ইনজুরিতে। সেল্তার ম্যাচে দুই লাল কার্ডে ফুল–ব্যাক পজিশন আরও ভাঙা। কিন্তু আসল ভয়ংকর অংশটা অন্য—দলের মানসিকতা ভেঙে পড়েছে।
জাবি আলোনসো আসার পর রিয়ালকে বদলানোর প্রতিশ্রুতি ছিল। শুরুতেও কিছু পরিবর্তন দেখা গিয়েছিল। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে—তিনি নিজেই দিক হারাচ্ছেন। একাদশ বাছাইয়ে অদ্ভুত সিদ্ধান্ত, সময়হীন বদলি, একই মানহীন কৌশল বারবার প্রয়োগ—সবই রিয়াল সমর্থকদের অসন্তুষ্ট করছে।
দৃষ্টান্ত:
✓ রদ্রিগো টানা ৩১ ম্যাচ গোলশূন্য, তবু তাকে খেলানো হচ্ছে।
✓ এনদ্রিক বেঞ্চে বসে থাকছেন, যদিও সুযোগ পেলে গতি ও অপ্রত্যাশিততা এনে দিতে পারেন।
✓ অ্যাসেনসিওকে রাইট–ব্যাক হিসেবে খেলানো—যে আসলে সেন্টার–ব্যাক!
✓ এমবাপ্পে–গনসালো–এনদ্রিক ত্রয়ীকে এখনো একবারও একত্রে মাঠে দেখা যায়নি।
সবচেয়ে বিস্ময়কর—আলোনসো তারকা খেলোয়াড়দের খুশি রাখতে গিয়ে নিজের ফুটবল দর্শন পরিত্যাগ করেছেন। রিয়ালের নীতি স্পষ্ট—কেউ ক্লাবের চেয়ে বড় নয়। কিন্তু মাঠে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র।
এখন গুঞ্জন আরও ঘনীভূত—
আলোনসোর জায়গায় কারা আসতে পারেন? জিদান? ক্লপ?
কিন্তু সমস্যাটা সেখানেও—এই অবস্থায় তাঁরা কি দায়িত্ব নেবেন? জিদান বিশ্বকাপের পর ফ্রান্সের দায়িত্ব পেতে পারেন। ক্লপের দর্শন সম্পূর্ণ হাই–প্রেসিং—যা এখনকার রিয়াল তো মোটেও প্রয়োগ করতে পারছে না।
সব মিলিয়ে রিয়াল এখন চরম সংকটে। মাঠের পারফরম্যান্স, ড্রেসিংরুম, আত্মবিশ্বাস—সব জায়গায় ধস নেমেছে। আলোনসোকে যদি সরিয়ে দেওয়া হয়, তবুও সমস্যার সমাধান তাত্ক্ষণিক হবে না। কারণ সমস্যার শেকড় দলটির মানসিকতা ও নেতৃত্বে।
রিয়ালকে বাঁচাতে হলে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে হবে। হয় তারকাদের সন্তুষ্ট করে মাঝারি ফুটবল খেলুন—নয়তো নিজের সিদ্ধান্তে দৃঢ় থাকুন।
এই মুহূর্তে রিয়ালের সামনে এটাই প্রকৃত প্রশ্ন।
