সিলেটের বিশ্বখ্যাত অলি হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের দানবাক্স ও তবারক রান্নার বিশাল ডেগে জমানো অর্থ গণনার সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও রাজনৈতিক সুরক্ষার আকুতি জানিয়ে লেখা একটি চিঠি পাওয়া গেছে।
শনিবার মাজার প্রাঙ্গণে দানবাক্স এবং মানতের ডেগে জমা হওয়া অর্থ ও বিভিন্ন সামগ্রী গণনার কার্যক্রম চলছিল। গণনাকারীরা যখন খুচরা টাকা ও মানতের কাগজগুলো আলাদা করছিলেন, তখন তাঁদের নজরে আসে কয়েকটি খোলা চিঠি। তার মধ্যেই আলাদাভাবে নজর কাড়ে গাজীপুর জেলার বাসিন্দা ও আওয়ামী লীগ সমর্থক সজিবের লেখা এই বিশেষ চিঠিটি।
চিঠির শুরুতেই আল্লাহর দরবারে আকুতি জানিয়ে সজিব লিখেছেন, ‘হে আল্লাহ তুমি মহান! আমাদের প্রিয় নেত্রী শেখ হাসিনাকে আমাদের হায়াত কমিয়ে নেত্রীর হায়াত বাড়িয়ে দেন।’ ব্যক্তিগত ভালোবাসার পাশাপাশি রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষাও উঠে এসেছে তাঁর এই লেখায়। চিঠির এক অংশে ‘প্রত্যাবর্তন-২’ শিরোনামের নিচে লেখা ছিল ‘শেখ হাসিনা ডিসেম্বর-২০২৬’। এই লেখার মাধ্যমে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরা কিংবা রাজনীতিতে পুনরাবর্তনের একটি আশাবাদ ও সময়ের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ‘জুলাইয়ের মামলা’ থেকে শেখ হাসিনাকে রক্ষা করা এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে করা মামলা থেকে তাঁদের সুরক্ষার জন্য স্রষ্টার কাছে প্রার্থনা জানানো হয়।
শত শত বছর ধরে সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারে ভক্ত ও দর্শনার্থীরা নিজেদের মনের আকুতি, পারিবারিক সংকট দূর করা কিংবা প্রিয়জনদের বিপদমুক্ত রাখার মানত নিয়ে আসেন। নগদ অর্থ ও তবারকের পাশাপাশি মনের ভাব প্রকাশ করে চিঠি লিখে মাজারের ডেগ বা দানবাক্সে ফেলে যাওয়ার এই ঐতিহ্য বেশ পুরোনো। শনিবারের এই অর্থ গণনাকালে রাজনৈতিক পটভূমির চিঠির পাশাপাশি বেশ কিছু আবেগঘন ব্যক্তিগত ও পারিবারিক চিঠিও উদ্ধার করা হয়।
এমনই একটি চিঠি পাওয়া গেছে ‘হেনা’ নামের এক নারীর। তিনি অত্যন্ত করুণ ভাষায় তাঁর পারিবারিক জীবনের টানাপোড়েন এবং স্বামীর বিভ্রান্ত জীবনের কথা তুলে ধরেছেন। চিঠিতে হেনা তাঁর স্বামীকে মাদকের গ্রাস থেকে মুক্ত করে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার আকুল প্রার্থনা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে যেসব কুচক্রী মানুষ তাঁর স্বামীকে পথভ্রষ্ট করেছে, তাদের উপযুক্ত বিচার এবং সমাজ থেকে মাদক নির্মূলের প্রার্থনা করেছেন এই নারী।
মাজার পরিচালনা কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরা জানান, প্রতিবার দানবাক্স ও তবারকের ডেগ খোলার পর নগদ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কারের পাশাপাশি বহু লিখিত বার্তা পাওয়া যায়। এসব চিঠিতে প্রকাশ পায় সাধারণ মানুষের জীবনের নানা সংকট, গোপন কান্না ও বিশ্বাসের প্রতি প্রতিফলন।








