শেরপুর সদর উপজেলায় রাইস কুকারে ভাত রান্না করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে কুলসুম আক্তার ভুলি (৪০) নামে এক গৃহিণীর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলার পাকুরিয়া ইউনিয়নের ফকিরপাড়া এলাকায় নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সোহেল রানা জানান, শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে কুলসুম আক্তার ভুলি বাড়িতে রাইস কুকারে ভাত রান্না করছিলেন। এ সময় ওই বৈদ্যুতিক যন্ত্র থেকে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।
ঘটনার পর পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসকেরা তাকে পরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. তানভীর আহমেদ মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নিহতের হাতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার চিহ্ন পাওয়া গেছে।
নিহত কুলসুম আক্তার ভুলি ফকিরপাড়া এলাকার ফুরকান আলীর স্ত্রী। তিনি দুই ছেলে ও এক মেয়ের মা। স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, তার বাবার বাড়ি ও শ্বশুরবাড়ি পাশাপাশি এলাকায় হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে তিনি ওই এলাকাতেই বসবাস করছিলেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে। মৃত্যুর সঠিক পরিস্থিতি ও ঘটনাটির অন্যান্য দিকও আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
পরিবারের পক্ষ থেকে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফনের অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হয়। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ মরদেহ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করেছে বলে জানান ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সোহেল রানা।
বাড়িতে ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক যন্ত্র থেকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার ঘটনা নতুন নয়। বিশেষ করে রান্নাঘরের মতো জায়গায় বৈদ্যুতিক যন্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে ত্রুটিপূর্ণ তার, সংযোগস্থল বা যন্ত্রের বৈদ্যুতিক অংশ থেকে দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তবে কুলসুমের ক্ষেত্রে রাইস কুকারটির ঠিক কী ধরনের ত্রুটি ছিল, তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, পরিবারের বক্তব্যে রাইস কুকার থেকেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার কথা বলা হয়েছে। হাসপাতালেও তার হাতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ৪০ বছর বয়সী এক গৃহিণীর আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের সৃষ্টি হয়েছে।









