জিলাইভ বাংলা | সত্যের জয় অবধারিত

ম্যাডোনা-কাইলির যৌথ গান যুক্তরাজ্যের নৃত্যচার্টে শীর্ষে

পপসংগীতের দুই প্রভাবশালী তারকা ম্যাডোনা ও কাইলি মিনোগের যৌথ পরিবেশনা এবার যুক্তরাজ্যের নৃত্যসংগীতের চার্টে নতুন ইতিহাস তৈরি করেছে। ‘লাভ সেনসেশন’-এর নতুন ‘আফটার আওয়ার্স মিক্স’ প্রকাশের পর সরাসরি শীর্ষস্থান দখল করেছে। দীর্ঘদিনের সহযোগী ও প্রযোজক স্টুয়ার্ট প্রাইসের পুনর্গঠিত সংগীতায়োজনে তৈরি এই সংস্করণে কাইলি মিনোগের কণ্ঠ যুক্ত হওয়ায় গানটি পেয়েছে নতুন মাত্রা।

এই সাফল্যের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো, মাত্র আট সপ্তাহের ব্যবধানে একই গান দ্বিতীয়বার যুক্তরাজ্যের ওই নৃত্যচার্টের শীর্ষে উঠেছে। এর আগে ম্যাডোনার একক সংস্করণ ‘লাভ সেনসেশন’ প্রথম স্থান দখল করেছিল। এবার কাইলিকে সঙ্গে নিয়ে তৈরি নতুন সংস্করণটি আবারও এক নম্বরে উঠে এসে গানটির জনপ্রিয়তাকে আরও জোরালো করেছে।

নতুন সংস্করণের যাত্রা অবশ্য শুরু হয়েছিল চার্টে ওঠার আগেই। গত ১ আগস্ট আমস্টারডামে বিশ্বপ্রাইডের আয়োজনের অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত ম্যাডোনার ‘ক্লাব কনফেশন্স’ অনুষ্ঠানে কাইলি মিনোগ আকস্মিকভাবে মঞ্চে হাজির হন। আমস্টারডামের এএফএএস লাইভে প্রায় আধঘণ্টার ওই পরিবেশনার অন্যতম বড় চমক ছিল দুই তারকার একসঙ্গে ‘লাভ সেনসেশন’ পরিবেশন। স্টুয়ার্ট প্রাইসও পুরো আয়োজনে ম্যাডোনার সঙ্গে ছিলেন। প্রায় ছয় হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার ভেন্যুটিতে এই আকস্মিক উপস্থিতি মুহূর্তেই অনুষ্ঠানের অন্যতম আলোচিত ঘটনায় পরিণত হয়।

লাইভ পরিবেশনার পর খুব বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়নি শ্রোতাদের। ৬ আগস্ট গানটির কাইলি-সমৃদ্ধ সংস্করণ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়। স্টুয়ার্ট প্রাইসের প্রযোজনায় তৈরি ‘আফটার আওয়ার্স মিক্স’ মূল গানের নৃত্যঘন আবহকে আরও জোরালো করে। পাশাপাশি আমস্টারডামের সেই বিশেষ রাতের দৃশ্য ব্যবহার করে গানের কথাভিত্তিক ভিডিও প্রকাশ করা হয়, ফলে সরাসরি মঞ্চের উচ্ছ্বাস দ্রুত ডিজিটাল শ্রোতাদের কাছেও পৌঁছে যায়।

ম্যাডোনা ও কাইলির এই সহযোগিতা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ দুজনই কয়েক দশক ধরে নৃত্যনির্ভর পপসংগীতের অন্যতম পরিচিত মুখ। ম্যাডোনা দীর্ঘ ক্যারিয়ারে পপসংগীতের পাশাপাশি ক্লাব ও নৃত্যসংগীতের ধারাকেও ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করেছেন। কাইলি মিনোগও নৃত্যনির্ভর পপসংগীতে নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছেন। ফলে দুই শিল্পীর কণ্ঠ একসঙ্গে পাওয়া শুধু নতুন একটি গান প্রকাশের ঘটনা নয়; এটি দুই ভিন্ন সময়ের পপসংস্কৃতির শক্তিশালী ধারার মিলনও বটে।

চার্ট সাফল্যের পাশাপাশি গানটি যুক্তরাজ্যের ক্লাবসংস্কৃতিতেও ভালো সাড়া পেয়েছে। সংশ্লিষ্ট চার্ট প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, দেশটির ক্লাবের সংগীত পরিবেশকদের কাছ থেকে নতুন সংস্করণটি ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেয়েছে। সেই সমর্থন গানটির দ্রুত শীর্ষে ওঠার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

এই এক নম্বরের মাধ্যমে মাত্র ১৫ সপ্তাহে যুক্তরাজ্যের নৃত্যচার্টে ম্যাডোনার শীর্ষস্থানীয় গানের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে পাঁচে। মে মাসের শুরু থেকে তিনি ‘আই ফিল সো ফ্রি’, ‘ব্রিং ইয়োর লাভ’, সাবরিনা কার্পেন্টারের সঙ্গে করা যৌথ গান, ‘ড্যান্সেটেরিয়া’ এবং সর্বশেষ ‘লাভ সেনসেশন’-এর নতুন সংস্করণ দিয়ে শীর্ষে পৌঁছেছেন।

‘লাভ সেনসেশন’-এর এই সাফল্য মূলধারার যুক্তরাজ্যের একক গানের চার্টেও প্রতিফলিত হয়েছে। যৌথ সংস্করণটি যুক্তরাজ্যের একক গানের তালিকায় আট নম্বরে উঠে ম্যাডোনাকে ২০০৯ সালের ‘সেলিব্রেশন’-এর পর সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছে। একই সঙ্গে এটি ম্যাডোনার ৬৫তম এবং কাইলি মিনোগের ৩৭তম যুক্তরাজ্যের সেরা দশে থাকা একক হিসেবে রেকর্ডে যুক্ত হয়েছে।

ফলে ‘লাভ সেনসেশন’ এখন শুধু একটি সফল পুনর্নির্মিত গান নয়। এটি ম্যাডোনার দীর্ঘ সংগীতজীবনে নতুন আরেকটি চার্ট অধ্যায় যোগ করেছে, পাশাপাশি কাইলি মিনোগের সঙ্গে তার বহুল আলোচিত সহযোগিতাকেও ঐতিহাসিক স্বীকৃতি দিয়েছে। আমস্টারডামের আকস্মিক মঞ্চ-জুটি থেকে যুক্তরাজ্যের চার্টের শীর্ষস্থান—অল্প সময়ের মধ্যেই গানটির যাত্রা প্রমাণ করেছে, দুই প্রজন্মের দুই পপতারকার সম্মিলিত উপস্থিতি এখনও শ্রোতাদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করতে পারে।

Tags :

বাংলা ডেস্ক । GLive24.com

সর্বশেষ খবর