জিলাইভ বাংলা | সত্যের জয় অবধারিত

ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন কি হুমায়ুন কবির?

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী (টেকনোক্র্যাট) হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর হুমায়ুন কবির ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে কোনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রও তাঁর নাগরিকত্ব ত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেনি।

গত শুক্রবার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন হুমায়ুন কবির। এর আগে তিনি প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি তিনি ওই দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

হুমায়ুন কবিরের জন্ম সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার হবসপুর গ্রামে। মাত্র আড়াই বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে তিনি যুক্তরাজ্যে চলে যান। সেখানেই তাঁর বেড়ে ওঠা ও উচ্চশিক্ষা। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব সাসেক্স থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকস অ্যান্ড পলিটিক্যাল সায়েন্স, ইউনিভার্সিটি অব কেমব্রিজ এবং লিডস ল স্কুল থেকে তিনটি পৃথক বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন।

পেশাগত জীবনেও যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন তিনি। লন্ডনের মেয়রের দপ্তরসহ ব্রিটিশ সরকারের উচ্চপর্যায়ের বিভিন্ন দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। রাজনীতিতে তাঁর হাতেখড়িও যুক্তরাজ্যে। লেবার পার্টির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে তিনি সেখানে সক্রিয় ছিলেন। টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের সাবেক ডেপুটি মেয়র অহিদ আহমদ চৌধুরীর ভাষ্য অনুযায়ী, ২০০৬ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত হুমায়ুন কবির লেবার পার্টির বেথনাল গ্রিন অ্যান্ড বো শাখার সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র বলছে, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই হুমায়ুন কবির তাঁর সাধারণ পাসপোর্ট জমা দেন। ২৩ ফেব্রুয়ারি তিনি সবুজ পাসপোর্ট জমা দেন এবং একই মাসে সরকারি বা কূটনৈতিক পাসপোর্ট গ্রহণ করেন। ওই পাসপোর্ট ব্যবহার করে প্রথমবার সৌদি আরব সফরে যান তিনি।

পরবর্তী ছয় মাসে সরকারি পাসপোর্টে তিনি যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া, তুরস্ক, ভারত, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মরিশাস ও ফিলিপাইনসহ বিভিন্ন দেশ সফর করেছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের হিসাবে, এ সময়ে তাঁর অন্তত ১১টি বিদেশ সফর হয়েছে।

হুমায়ুন কবিরের ব্রিটিশ নাগরিকত্ব থাকার বিষয়টি যুক্তরাজ্য বিএনপির একাধিক নেতা নিশ্চিত করেছেন। তবে তিনি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের আগে সেই নাগরিকত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে ত্যাগ করেছেন কি না, সে বিষয়ে তাঁরা নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেননি।

বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর কাছেও এ বিষয়ে পরিষ্কার তথ্য নেই। সূত্রগুলো বলছে, হুমায়ুন কবির ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগের জন্য আবেদন করেছেন—এমন কোনো চিঠি বা তথ্য তাদের হাতে পৌঁছেছে বলে জানা নেই।

বিদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগের বিষয়ে সরাসরি বক্তব্য জানতে শনিবার হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তাঁর সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ দপ্তরেও যোগাযোগ করা হলেও এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কেউ পরবর্তীতে যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব গ্রহণ করলে সাধারণভাবে নির্দিষ্ট শর্তের অধীনে উভয় দেশের নাগরিকত্ব ও পাসপোর্ট রাখার সুযোগ থাকতে পারে। ফলে সরকারি বা কূটনৈতিক পাসপোর্ট গ্রহণের বিষয়টি নিজে থেকেই ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগের প্রমাণ নয়। হুমায়ুন কবিরের ক্ষেত্রে তিনি ব্রিটিশ নাগরিকত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে ত্যাগ করেছেন কি না, সেটিই এখন মূল প্রশ্ন।

রাজনীতিতে তাঁর বাংলাদেশ-পর্বও তুলনামূলকভাবে সাম্প্রতিক। ২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব (আন্তর্জাতিক বিষয়ক) হিসেবে দায়িত্ব পান তিনি। এরপর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা এবং সর্বশেষ শুক্রবার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।

তবে তাঁর ব্রিটিশ নাগরিকত্বের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে সরকারি নথি বা তাঁর নিজের বক্তব্য প্রকাশ্যে না আসা পর্যন্ত বিষয়টি নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে হুমায়ুন কবির নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন কি না—এই প্রশ্নের নির্ভরযোগ্য উত্তর এখনো অমীমাংসিত।

Tags :

বাংলা ডেস্ক । GLive24.com

সর্বশেষ খবর