বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি উপস্থিত থাকছেন না। তাঁর পরিবর্তে ভারত সরকারের আনুষ্ঠানিক প্রতিনিধিত্ব করবেন দেশটির লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। রোববার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি বিকেলে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠেয় শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রিও উপস্থিত থাকবেন বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে স্পিকারের অংশগ্রহণ দুই দেশের জনগণের মধ্যকার গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের প্রতিফলন। একই সঙ্গে এটি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি ভারতের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে—যে মূল্যবোধ দুই দেশকে ঐতিহাসিকভাবে সংযুক্ত করেছে।
বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময়কার সহযোগিতা থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত নানা ক্ষেত্রে বিস্তৃত হয়েছে। বাণিজ্য, যোগাযোগ, জ্বালানি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়সহ বহুমাত্রিক সহযোগিতা বর্তমানে দুই দেশের সম্পর্ককে একটি কৌশলগত উচ্চতায় নিয়ে গেছে। রাজনৈতিক পর্যায়ে উচ্চপর্যায়ের সফর ও নিয়মিত সংলাপ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে সরকার গঠনের ম্যান্ডেট অর্জন করেছে। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে নবগঠিত মন্ত্রিসভা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নেবে। ক্ষমতা হস্তান্তরের এই প্রক্রিয়াকে প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে ভারত স্বাগত জানিয়েছে এবং গণতান্ত্রিক উত্তরণকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
শপথ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ১৩টি দেশের সরকারপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। দিল্লি সূত্রে জানা গেছে, আমন্ত্রণপত্র ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কাছে পৌঁছেছে। আমন্ত্রিত দেশগুলোর তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
| ক্রম | দেশ | আমন্ত্রিত পদমর্যাদা |
|---|---|---|
| ১ | চীন | সরকারপ্রধান |
| ২ | ভারত | সরকারপ্রধান |
| ৩ | পাকিস্তান | সরকারপ্রধান |
| ৪ | সৌদি আরব | সরকারপ্রধান |
| ৫ | তুরস্ক | সরকারপ্রধান |
| ৬ | সংযুক্ত আরব আমিরাত | সরকারপ্রধান |
| ৭ | কাতার | সরকারপ্রধান |
| ৮ | মালয়েশিয়া | সরকারপ্রধান |
| ৯ | ব্রুনেই | সরকারপ্রধান |
| ১০ | শ্রীলঙ্কা | সরকারপ্রধান |
| ১১ | নেপাল | সরকারপ্রধান |
| ১২ | মালদ্বীপ | সরকারপ্রধান |
| ১৩ | ভুটান | সরকারপ্রধান |
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী সরাসরি উপস্থিত না থাকলেও লোকসভার স্পিকারের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল পাঠানো কূটনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। এটি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ধারাবাহিকতা ও পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখার ইঙ্গিত বহন করে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি সমর্থন প্রদর্শনেরও বার্তা দেয়।
নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানকে ঘিরে দেশ-বিদেশে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে এটি কেবল সরকার পরিবর্তনের আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং একটি গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতার গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
