রংপুরে গত তিন দিনে ‘রেকটিফায়েড স্পিরিট’ পান করার ফলে ছয়জনের মৃত্যু এবং আরও দুইজনের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঘটনা এলাকায় গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদেহ দুটি মঙ্গলবার মধ্যরাতে উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মৃতদের পরিবার ও স্বজনরা এই দুর্ঘটনায় শোকাহত এবং স্থানীয়দের মধ্যে সতর্কতার আহ্বান বেড়েছে।
হাজিরহাট থানার ওসি আজাদ রহমান জানান, মঙ্গলবার রাতে মৃত দুইজন হলেন: বদরগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের পূর্ব শিবপুর গ্রামের মহির উদ্দিনের ছেলে আব্দুল মালেক এবং রংপুর সদর উপজেলার শ্যামপুর বন্দর কলেজ পাড়ার প্রয়াত মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে রাশেদুল ইসলাম। এর আগে রোববার মধ্যরাতে বদরগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুরহাট এলাকায় এক মাদক ব্যবসায়ীর বাড়িতে রেকটিফায়েড স্পিরিট পান করে তিনজন মারা যান এবং আরও কয়েকজন অসুস্থ হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।
নিহতদের বিস্তারিত তথ্য নিচের টেবিলে দেওয়া হলো:
| মৃত্যু তারিখ | নাম | বয়স | ঠিকানা | পিতার নাম |
|---|---|---|---|---|
| রোববার (১১ জানুয়ারি) | আলমগীর হোসেন | অজানা | বসন্তপুর, গোপালপুর, বদরগঞ্জ | আমিরুল ইসলাম |
| রোববার (১১ জানুয়ারি) | সোহেল মিয়া | অজানা | পূর্ব শিবপুর, গোপালপুর, বদরগঞ্জ | রফিকুল ইসলাম |
| রোববার (১১ জানুয়ারি) | জাননাত আলি | অজানা | সাহাপুর, সদর, রংপুর | অজানা |
| সোমবার (১২ জানুয়ারি) | মানিক চন্দ্র রায় | ৬০ | শিবের বাজার পশ্চিম হিন্দুপাড়া, সদর, রংপুর | অনিল চন্দ্র রায় |
| মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) | আব্দুল মালেক | অজানা | পূর্ব শিবপুর, গোপালপুর, বদরগঞ্জ | মহির উদ্দিন |
| মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) | রাশেদুল ইসলাম | অজানা | শ্যামপুর বন্দর কলেজ পাড়া, সদর, রংপুর | মোফাজ্জল হোসেন |
পুলিশ জানায়, এই ঘটনায় জয়নুল আবেদীন নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, জয়নুল চোলাই মদ ও রেকটিফায়েড স্পিরিট বিক্রি করতেন। নিহতরা তার বাড়ি থেকে মদ কিনে পান করেছিলেন, যার ফলে তারা অসুস্থ হয়ে মারা যান।
রংপুর জেলা পুলিশ সুপার মারুফাত হোসাইন জানান, মাদক ব্যবসায়ীরা হোমিওপ্যাথিক চেম্বার থেকে ওষুধ সংগ্রহ করে স্পিরিট তৈরি করছিলেন। নগরের একটি হোমিওপ্যাথিক চেম্বারে অভিযান চালানো হয়েছে এবং সেখানে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বর্তমানে ঘটনার ব্যাপক তদন্ত চালাচ্ছে।
এদিকে, বদরগঞ্জ ও হাজিরহাট থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। বদরগঞ্জ থানার ওসি হাসান জাহিদ সরকার এবং সদর কোতোয়ালি থানার ওসি আব্দুল গফুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। স্থানীয়রা জনসাধারণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছেন এবং প্রশাসনও অচিরেই ব্যাপক তদন্ত ও সচেতনতামূলক উদ্যোগ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
