খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১ই জুলাই ২০২৬, ৬:৪০ পিএম

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর নকআউট পর্বের শুরুতেই বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের উন্মাদনা আকাশ ছুঁয়েছে। মাঠের লড়াইয়ে প্রথম ধাপেই নিজেদের শক্তিমত্তা ও দাপট দেখিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে কানাডা, ব্রাজিল, প্যারাগুয়ে, মরক্কো, ফ্রান্স, নরওয়ে ও মেক্সিকোর মতো দলগুলো। ফুটবলীয় পরাশক্তিদের এই অগ্রযাত্রার বিপরীতে টুর্নামেন্টের প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নিয়ে অশ্রুসিক্ত চোখে বাড়ির পথ ধরেছে দক্ষিণ আফ্রিকা, জাপান, জার্মানি ও নেদারল্যান্ডসের মতো জায়ান্টরা। বিশ্বমঞ্চের এই মহাযজ্ঞের চূড়ান্ত ১৬টি দল নির্ধারণ করতে এখনো রাউন্ড অব ৩২-র বেশ কিছু রোমাঞ্চকর ম্যাচ বাকি রয়েছে। টুর্নামেন্ট যত গড়াচ্ছে, মাঠের উত্তেজনা এবং হিসাব-নিকাশ ততই জটিল হয়ে উঠছে।
চলমান বিশ্বমঞ্চে বর্তমান ফুটবলবিশ্বের দুই অবিসংবাদিত পরাশক্তি পর্তুগাল এবং আর্জেন্টিনা এমন এক গাণিতিক সমীকরণে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী তাদের পারস্পরিক সাক্ষাৎ কেবল ফাইনাল ম্যাচেই সম্ভব। এর সহজ অর্থ হলো, কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমী এবার পেতে যাচ্ছেন আধুনিক ফুটবলের সবচেয়ে বড় ‘স্বপ্নের ফাইনাল’—ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো বনাম লিওনেল মেসির এক মহাকাব্যিক শেষ লড়াই। সাধারণ দর্শক থেকে শুরু করে এই দুই মহাতারকার ভক্তদের জন্য যা এক পরম আরাধ্য মুহূর্ত। তবে ফুটবলের ভাগ্য যদি অন্য কিছু লিখে রাখে, অর্থাৎ দুদলই যদি সেমিফাইনালে হেরে যায়, তবুও বিশ্বমঞ্চে তাদের মুখোমুখি হওয়ার একটি সুযোগ থাকছে; তবে সেটি হবে কেবলই তৃতীয় স্থান নির্ধারণী সান্ত্বনার ম্যাচে।
অবশ্য এখনই চূড়ান্ত আনন্দের জোয়ারে ভেসে যাওয়ার সুযোগ নেই। স্বপ্নের এই ফাইনালে মুখোমুখি হতে হলে পর্তুগাল ও আর্জেন্টিনা—দুই দলকেই তাদের পরবর্তী ৪টি ম্যাচে টানা জয় তুলে নিতে হবে। নকআউট পর্বের কঠিন মঞ্চে যেকোনো একটি দল যদি একটি ম্যাচেও পা হড়কায়, তবেই মুহূর্তের মধ্যে ধূলিসাৎ হয়ে যাবে কোটি ভক্তের কাঙ্ক্ষিত সেই মেসি-রোনালদো দ্বৈরথ। তাই কাগজে-কলমে বিষয়টি যতটা রোমাঞ্চকর মনে হচ্ছে, বাস্তবচিত্রের কঠিন সমীকরণ সম্পূর্ণ ভিন্ন।
সামনে রাউন্ড অব ৩২-র খেলায় পর্তুগালকে লড়তে হবে শক্তিশালী ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে। অন্যদিকে, বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ অপেক্ষাকৃত দুর্বল দল কেপ ভার্দে। তবে এই স্বপ্নের ফাইনালের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন বিশ্বকাপের নকআউটে সর্বোচ্চ গোলের মালিক কিলিয়ান এমবাপ্পে। এই ফরাসি ফরোয়ার্ড ফুটবলবিশ্বের দুই কিংবদন্তিকে টপকে নিজের মাথায় বিশ্বসেরার মুকুট পরতে উন্মুখ হয়ে আছেন।
কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত পর্তুগাল ও ফ্রান্স যদি নিজেদের সব ম্যাচে জয়লাভ করতে পারে, তবে সেমিফাইনালেই দেখা হয়ে যাবে এই দুই পরাশক্তির। রাউন্ড অব ১৬-র ম্যাচে ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ জার্মানিকে বিদায় করে দেওয়া লড়াকু প্যারাগুয়ে। যদি এমবাপ্পে সেমিফাইনালে রোনালদোর পর্তুগালকে হারিয়ে দিতে পারেন, তবে ফাইনালে আবারও দেখা যেতে পারে ২০২২ বিশ্বকাপের সেই রুদ্ধশ্বাস আর্জেন্টিনা বনাম ফ্রান্স দ্বৈরথ। তবে এবার নিশ্চয়ই ফরাসি গতিদানব চাইবেন ফলাফলটা যেন তার নিজের পক্ষে আসে।
একটি ঐতিহাসিক পরিসংখ্যান: বিশ্বকাপের ইতিহাসে পরপর দুটি আসরে একই দল ফাইনালে মুখোমুখি হওয়ার ঘটনা ঘটেছে মাত্র একবার। ১৯৮৬ এবং ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপে টানা দুবার ফাইনালে লড়েছিল আর্জেন্টিনা ও জার্মানি। যার মধ্যে প্রথমবার ১৯৮৬ সালে আর্জেন্টিনা এবং দ্বিতীয়বার ১৯৯০ সালে জার্মানি শিরোপা জিতেছিল।
২০২৬ বিশ্বকাপে শেষ পর্যন্ত কারা খেলবে ফাইনালে আর কার হাতে উঠবে সোনালী ট্রফি, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা অসম্ভব। ফুটবল অনিশ্চয়তার খেলা, তাই এর উত্তরটা আপাতত সময়ের উপরই ছেড়ে দেওয়া শ্রেয়।
মন্তব্য