চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার উঁচুর বিল পুরানগড় এলাকায় ইয়াবা ব্যবসার লাভের অংশ নিয়ে বিরোধের জেরে এক কিশোরকে নির্মমভাবে হত্যা করে লাশ পাহাড়ে মাটিচাপা দেওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় নতুন তথ্য উঠে এসেছে। দীর্ঘ চার বছর পর মামলার তদন্তে অগ্রগতি হলে মূল অভিযুক্ত অটোরিকশাচালক মো. পারভেজ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, নিহত কিশোর প্রতিবেশী অটোরিকশাচালক পারভেজের গাড়িতে প্রায় দ্বিগুণ ভাড়া দিয়ে যাতায়াত করত। একপর্যায়ে পারভেজ জানতে পারেন, কিশোরটি ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এরপর তিনি ওই ব্যবসার লাভের অংশ দাবি করেন। কিন্তু কিশোর তা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ক্ষোভে পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
২০২২ সালের ১৭ জুলাই রাতে কিশোরকে স্থানীয় এক কলেজ মাঠে ডেকে আনা হয়। সেখানে পারভেজসহ কয়েকজন তাকে ঘিরে ধরে ইয়াবা ও টাকা দাবি করে এবং মারধর শুরু করে। পরে তাকে পাশের একটি সেতুর ওপর নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে হাত-পা চেপে ধরে রাখা অবস্থায় কিশোর প্রাণভিক্ষা চায়। কিন্তু হামলাকারীরা তাকে বেঁচে না রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর কোদাল দিয়ে পা ও গলায় আঘাত করে হত্যা করা হয়। পরে লাশ গুম করতে মাথা দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন করে পাহাড়ে গর্ত খুঁড়ে মাটিচাপা দেওয়া হয়।
প্রায় ২০ থেকে ২১ দিন পর শিয়ালের দল মাটি খুঁড়ে লাশের অংশ বের করে আনে। পরে পরিবারের সদস্যরা পোশাক দেখে কিশোরের পরিচয় শনাক্ত করেন।
ঘটনার সংক্ষিপ্ত সময়রেখা
| তারিখ/সময় | ঘটনা |
|---|---|
| ২০২২ সালের ১৭ জুলাই | কিশোরকে ডেকে নিয়ে হত্যা |
| হত্যার পর | লাশ পাহাড়ে মাটিচাপা দেওয়া হয় |
| প্রায় ২০–২১ দিন পর | শিয়ালের মাধ্যমে লাশের অংশ প্রকাশ |
| পরবর্তীতে | পরিবার লাশ শনাক্ত করে মামলা করে |
| ২০২৬ সালের মে | প্রধান অভিযুক্তের স্বীকারোক্তি ও গ্রেপ্তার |
লাশ উদ্ধারের পর নিহত কিশোরের বাবা সাতকানিয়া থানায় মামলা করেন। শুরুতে থানা পুলিশ তদন্ত করলেও দীর্ঘদিন কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় তদন্তের দায়িত্ব পরে অপরাধ তদন্ত বিভাগে হস্তান্তর করা হয়। তদন্তে ধীরে ধীরে অটোরিকশাচালক পারভেজের সম্পৃক্ততা উঠে আসে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার দায় স্বীকার করেন।
তদন্ত কর্মকর্তাদের মতে, ইয়াবা ব্যবসার লাভের অংশ না পেয়ে ক্ষোভ থেকেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। বর্তমানে মামলার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে। শিগগিরই আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে বলে তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
নিহত কিশোরের পরিবার জানিয়েছে, তারা এই হত্যাকাণ্ডের সর্বোচ্চ শাস্তি চান এবং ভবিষ্যতে যেন কেউ এমন নির্মমতার শিকার না হয়, সে জন্য দৃষ্টান্তমূলক বিচার প্রত্যাশা করেন।
এ ঘটনায় স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
