জিলাইভ বাংলা | সত্যের জয় অবধারিত

মেসির গোলেও কাটল না মিয়ামির টানা ব্যর্থতা

লিওনেল মেসি আবারও গোলের দেখা পেলেন। কিন্তু তাঁর গোলও ইন্টার মিয়ামিকে পরাজয়ের হাত থেকে বাঁচাতে পারল না। মেজর লিগ সকারের ম্যাচে নিজেদের মাঠ নিউ স্টেডিয়ামে টরন্টো এফসির কাছে ২-১ গোলে হেরেছে মিয়ামি। এই পরাজয়ে লিগে টানা তিন ম্যাচ জয়হীন থাকল দলটি।

বিশ্বকাপের বিরতির পর থেকেই ইন্টার মিয়ামির পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতার ঘাটতি স্পষ্ট। ২২ জুলাই থেকে এখন পর্যন্ত নয়টি ম্যাচ খেলেছে দলটি। এর মধ্যে জয় এসেছে তিনটিতে, দুটি ম্যাচ হয়েছে ড্র এবং চারটিতে হারতে হয়েছে তাদের। লিগস কাপেও টানা দুই পরাজয়ের পর বিদায় নিতে হয়েছে মেসিদের। ফলে মৌসুমের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দলটির ওপর চাপ ক্রমেই বাড়ছে।

এমএলএসে শনিবারের হারটি ছয় ম্যাচে মিয়ামির দ্বিতীয় পরাজয়। ৮ আগস্টের পর সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এটি তাদের চতুর্থ হার। যদিও ইস্টার্ন কনফারেন্সের পয়েন্ট তালিকায় এখনো দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মিয়ামি, তবে শীর্ষস্থান থেকে ব্যবধানটা বড় হচ্ছে। ২১ ম্যাচ শেষে তাদের সংগ্রহ ৩৯ পয়েন্ট। একই সংখ্যক ম্যাচ খেলে শীর্ষে থাকা ন্যাশভিলের পয়েন্ট ৪৯।

টরন্টোর বিপক্ষে ম্যাচের প্রথমার্ধে অবশ্য মিয়ামি তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রিত ফুটবল খেলেছে। স্বাগতিকদের রক্ষণভাগও প্রতিপক্ষকে খুব বেশি সুযোগ দেয়নি। ফলে প্রথম ৪৫ মিনিটে দুই দলের কেউই গোল করতে পারেনি। গোলশূন্য সমতায় শেষ হয় প্রথমার্ধ।

বিরতির পর ম্যাচের পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টে যায়। মিয়ামির রক্ষণে ফাঁক খুঁজে নিয়ে ৫৯ মিনিটে টরন্টোকে এগিয়ে দেন জোশ সার্জেন্ট। প্রথম গোলের ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই আরও বড় বিপদে পড়ে মিয়ামি। মাত্র তিন মিনিট পর, ৬২ মিনিটে, ডেরেক ইতিয়েন জুনিয়র টরন্টোর দ্বিতীয় গোলটি করেন।

দুই গোল হজম করার পর মিয়ামি আক্রমণে গতি বাড়ানোর চেষ্টা করে। মেসিও একাধিকবার আক্রমণ তৈরিতে সক্রিয় ছিলেন। তবে টরন্টোর রক্ষণভাগের দৃঢ়তায় স্বাগতিকদের আক্রমণ কাঙ্ক্ষিত ফল পাচ্ছিল না।

অবশেষে ম্যাচের ৮২ মিনিটে ব্যবধান কমান মেসি। বক্সের ভেতর সুযোগ কাজে লাগিয়ে আর্জেন্টাইন তারকা বল জালে পাঠান। বিশ্বকাপ-পরবর্তী ক্লাব ফুটবলে এটি তাঁর পঞ্চম গোল। গোলটি মিয়ামিকে ম্যাচে ফেরার সামান্য আশা দেখালেও শেষ মুহূর্তে সমতা ফেরানোর মতো সময় ও সুযোগ আর পায়নি তারা।

মেসির ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে গোলের ধারাবাহিকতা থাকলেও দলীয় ফলাফল এখন বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে রক্ষণভাগের দুর্বলতা এবং গুরুত্বপূর্ণ সময়ে গোল হজম করা মিয়ামির সাম্প্রতিক ব্যর্থতার অন্যতম কারণ হিসেবে সামনে এসেছে।

এই পরাজয়ের ফলে এমএলএসের শিরোপা দৌড়েও মিয়ামির অবস্থান কিছুটা কঠিন হয়েছে। ২১ ম্যাচে ১১ জয়, ছয় ড্র ও চার পরাজয়ে তাদের সংগ্রহ ৩৯ পয়েন্ট। অন্যদিকে একই সংখ্যক ম্যাচ শেষে ন্যাশভিল ৪৯ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে। অর্থাৎ শীর্ষস্থান পুনরুদ্ধার করতে হলে শুধু মেসির গোল নয়, পুরো দলকে দ্রুত জয়ের ধারায় ফিরতে হবে।

সাম্প্রতিক ফলাফল বলছে, মিয়ামির সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ধারাবাহিকতা ফিরিয়ে আনা। মেসি ব্যক্তিগতভাবে গোল করে যাচ্ছেন, কিন্তু দলীয় সাফল্য না এলে সেই পারফরম্যান্সের প্রভাব পয়েন্ট তালিকায় খুব বেশি প্রতিফলিত হচ্ছে না। মৌসুমের এই পর্যায়ে তাই পরবর্তী ম্যাচগুলোতে মিয়ামির প্রতিটি পয়েন্টই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

Tags :

বাংলা ডেস্ক । GLive24.com

সর্বশেষ খবর