খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ই জুন ২০২৬, ৪:৪ পিএম

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় মক্তব ছুটির পর কৌশলে এক শিশু শিক্ষার্থীকে (৭) আটকে রেখে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে স্থানীয় একটি মসজিদের মুয়াজ্জিনকে আটক করেছে পুলিশ। জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে।
শুক্রবার (২৬ জুন) রাত সাড়ে ১১টার দিকে গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুল ইসলাম হাবিব। এর আগে একই দিন বিকেলে উপজেলার কামারপাড়া ইউনিয়নের কিশামতবাগচী আকন্দপাড়া জামে মসজিদে এই ঘটনা ঘটে।
আটক যুবকের নাম মনির হোসেন (২২)। তিনি কিশামতবাগচী আকন্দপাড়া জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। মনির স্থানীয় বাসিন্দা মিলন মিয়ার ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো শুক্রবার বিকেলেও স্থানীয় শিশুরা আকন্দপাড়া জামে মসজিদের মক্তবে আরবি পড়তে যায়। পড়া শেষে বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে মুয়াজ্জিন মনির হোসেন সব শিশুকে ছুটি দিয়ে দেন। তবে সাত বছর বয়সী ওই শিশুটিকে একটি বিশেষ কৌশলে মক্তব ঘরে আটকে রাখেন তিনি।
অন্যান্য শিক্ষার্থীরা চলে যাওয়ার পর ফাঁকা মক্তব ঘরে ওই শিশুর ওপর যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণচেষ্টা চালানো হয়। একপর্যায়ে শিশুটির চিৎকারে আশপাশের লোকজন এবং পথচারীরা এগিয়ে আসেন। তারা হাতেনাতে ঘটনাটি ধরে ফেলেন এবং অভিযুক্ত মুয়াজ্জিন মনির হোসেনকে ঘরের ভেতর আটকে রাখেন।
ঘটনার পর উত্তেজিত জনতা ও ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে বিষয়টি অবগত করে। খবর পেয়ে সাদুল্লাপুর থানা পুলিশের একটি চৌকস দল দ্রুত কিশামতবাগচী আকন্দপাড়া এলাকায় পৌঁছায়। এরপর তারা উত্তেজিত জনতার হাত থেকে অভিযুক্ত মনিরকে উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নিয়ে যায়।
সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুল ইসলাম হাবিব জানান, মক্তবের এক শিশু শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে মনির নামের ওই মুয়াজ্জিনকে আটক করা হয়েছে। তাকে থানায় রেখে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
ওসি আরও জানান, এই ন্যক্কারজনক ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি লিখিত এজাহার বা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। মামলা নথিভুক্ত হওয়ার পর আইন অনুযায়ী পরবর্তী সমস্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একই সাথে শিশুটির জবানবন্দি ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষার বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এই ঘটনার পর থেকে স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তারা দ্রুত এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য