গুরুদাসপুরে ডাকাতি ছিনতাই আতঙ্ক

নাটোর জেলার গুরুদাসপুর উপজেলায় গত কয়েক সপ্তাহে চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ধারাবাহিক ঘটনায় জনজীবনে চরম নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। গত প্রায় ২০ দিনের ব্যবধানে অন্তত সাতটি বড় ধরনের অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, যার বেশিরভাগই সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়েছে বলে স্থানীয়দের ধারণা। তবে এখন পর্যন্ত এসব ঘটনায় জড়িত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, যা জনমনে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, থানার নিকটবর্তী এলাকাতেই একাধিক চুরি ও ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। গত শুক্রবার গভীর রাতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের এক প্রশাসনিক কর্মকর্তার সরকারি কোয়ার্টারে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এর আগে একই কৌশলে আরও একটি বাড়িতে বড় অঙ্কের স্বর্ণ ও নগদ টাকা লুট হয়।

এছাড়া পৌর এলাকার একটি গ্রামে গবাদিপশু চুরির ঘটনা ঘটে, যেখানে কয়েকটি দুধেল গাভী ও একটি ষাঁড় নিয়ে যায় চোরচক্র। এ ঘটনায় প্রায় দশ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সময়ে বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও চুরির ঘটনা ঘটেছে, যা নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে উদ্বেগজনক ঘটনা ঘটে ভোররাতে কলেজের সামনে সড়কে। সেখানে পাঁচজন ব্যক্তি ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন। অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এর কয়েকদিন পরই আরেকটি সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনায় একটি বাড়ি থেকে প্রায় পনেরো লাখ টাকার সম্পদ লুট হয়।

গুরুদাসপুরের সাম্প্রতিক অপরাধ পরিস্থিতি

তারিখঘটনাস্থানক্ষতির পরিমাণ
১৫ এপ্রিলডাকাতিথানা সংলগ্ন এলাকাস্বর্ণ ও নগদ অর্থ
২০ এপ্রিলগবাদিপশু চুরিপৌর এলাকাপ্রায় ১০ লাখ টাকা
২ মেডাকাতিসরকারি কোয়ার্টারস্বর্ণ ও নগদ অর্থ
৬ মেছিনতাইকলেজ সংলগ্ন সড়কমোবাইল ও টাকা
৭ মেসংঘবদ্ধ ডাকাতিবিয়াঘাট ইউনিয়নপ্রায় ১৫ লাখ টাকা

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, এলাকায় মাদকের বিস্তার ভয়াবহ রূপ নিয়েছে, যার সঙ্গে অপরাধ বৃদ্ধির সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে বলে তারা মনে করেন। বিশেষ করে রাতে ব্যবসা-বাণিজ্যের অর্থ নিয়ে চলাচল করতে ভয় পাচ্ছেন অনেকে। থানার কাছাকাছি এলাকায় একের পর এক ঘটনা ঘটলেও অপরাধীদের ধরা না পড়ায় জনমনে হতাশা ও আতঙ্ক আরও গভীর হচ্ছে।

এ বিষয়ে থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, মাদক নিয়ন্ত্রণে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান জোরদার করা হয়েছে এবং কয়েকজনকে শাস্তিও দেওয়া হয়েছে।

তবে স্থানীয়দের মতে, শুধু অভিযান নয়, স্থায়ী নজরদারি ও কঠোর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে না। বর্তমানে গুরুদাসপুরে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে এক ধরনের অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে, যা দ্রুত সমাধান না হলে সামাজিক নিরাপত্তা আরও হুমকির মুখে পড়তে পারে।