৫০তম বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে খুলনা থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করেছিলেন শেখ মিশা খাতুন। চাকরিজীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরও নিজের পেশাগত ভবিষ্যৎ আরও এগিয়ে নেওয়ার স্বপ্ন ছিল তার। কিন্তু ঢাকায় পৌঁছানোর আগেই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় থেমে গেল সেই পথচলা।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার সালিনাবক্সা এলাকায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেস পরিবহনের একটি বাস সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়। এতে শেখ মিশা খাতুনসহ তিনজন নিহত হন।
নিহত শেখ মিশা খাতুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের ৩৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। পড়াশোনা শেষ করে তিনি বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের খুলনা কার্যালয়ে পরীক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কর্মজীবনে দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি সরকারি চাকরিতে আরও বড় পরিসরে কাজ করার প্রত্যাশায় ৫০তম বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি।
পরিবার ও স্বজনদের জন্য এই দুর্ঘটনা আরও বেদনাদায়ক হয়ে উঠেছে, কারণ মিশা খাতুনের ঢাকামুখী যাত্রার উদ্দেশ্য ছিল নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেওয়া। কিন্তু সেই যাত্রাই শেষ পর্যন্ত তার জীবনের শেষ যাত্রায় পরিণত হয়।
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সহপাঠী, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে শোকের আবহ তৈরি হয়। তার মৃত্যুর ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদও শোক জানিয়েছে।
ডাকসুর শোকবার্তায় বলা হয়েছে, শেখ মিশা খাতুন ছিলেন একজন মেধাবী শিক্ষার্থী ও সম্ভাবনাময় তরুণী। কর্মজীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরও নিজের স্বপ্নকে আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয়ে তিনি ৫০তম বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে ঢাকার পথে রওনা হয়েছিলেন। কিন্তু দুর্ঘটনায় তার সেই প্রত্যাশা আর পূরণ হলো না।
শোকবার্তায় আরও বলা হয়, একজন মেধাবী শিক্ষার্থী ও সম্ভাবনাময় মানুষের এভাবে চলে যাওয়া অপূরণীয় ক্ষতি। তার স্মৃতি সহপাঠী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও পরিচিতজনদের মধ্যে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকবে।
ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদের স্বাক্ষর করা ওই শোকবার্তায় শেখ মিশা খাতুনের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত ও শান্তি কামনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে মহান আল্লাহর কাছে তার জন্য জান্নাতুল ফেরদৌসের দোয়া করা হয়। শোকসন্তপ্ত পরিবার ও স্বজনদের প্রতিও গভীর সমবেদনা জানানো হয়েছে।
মিশা খাতুনের মৃত্যুর ঘটনা আবারও মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাস চলাচলের নিরাপত্তা, চালকদের সতর্কতা এবং দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তাকে সামনে এনেছে। একটি সম্ভাবনাময় জীবন যেমন মুহূর্তেই থেমে গেছে, তেমনি তার পরিবার হারিয়েছে একজন প্রিয় মানুষকে। বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার স্বপ্ন নিয়ে শুরু করা সেই যাত্রার শেষ পরিণতি তাই স্বজন ও সহপাঠীদের কাছে হয়ে থাকল গভীর বেদনার স্মৃতি।










