এশিয়ান গেমসে ভারতীয় ক্রিকেটারদের থাকার ব্যবস্থা নিয়ে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে ভারতীয় অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। জাসপ্রীত বুমরা ও বৈভব সূর্যবংশীসহ ভারতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়দের পাঁচতারা হোটেলে রাখার অনুরোধ জানিয়েছিল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। তবে সেই অনুরোধে সম্মতি দেয়নি ভারতীয় অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন।
জাপানের আইচি-নাগোয়ায় অনুষ্ঠেয় এশিয়ান গেমসের জন্য ভারতীয় দলের আবাসনের ক্ষেত্রে সব ক্রীড়াবিদের জন্য অভিন্ন নীতি অনুসরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন। সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ক্রিকেটারদের জন্য অন্য খেলোয়াড়দের তুলনায় আলাদা বা বিশেষ আবাসন সুবিধা দেওয়া হবে না।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এশিয়ান গেমসে অংশ নিতে যাওয়া ভারতীয় পুরুষ ক্রিকেট দলকে তিনতারা হোটেলে এবং নারী ক্রিকেট দলকে চারতারা হোটেলে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। নির্ধারিত ব্যবস্থায় কক্ষ ভাগাভাগি করে থাকার বিষয়টিও রয়েছে। বিসিসিআই এই ব্যবস্থায় সন্তুষ্ট নয় বলেই জানা গেছে।
এ কারণে বোর্ডের একটি প্রতিনিধিদল জাপানে গিয়ে নির্ধারিত হোটেল এবং খেলোয়াড়দের জন্য রাখা অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা সরেজমিনে পরিদর্শন করবে। পরিদর্শনের পরই বোর্ড চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে, তারা আয়োজকদের নির্ধারিত আবাসন ব্যবস্থায় থাকবে, নাকি নিজেদের উদ্যোগে ক্রিকেটারদের জন্য আলাদা থাকার ব্যবস্থা করবে।
ভারতীয় অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রঘুরাম আইয়ার স্পষ্ট করে বলেছেন, ক্রিকেটারদের জন্য আলাদা কোনো ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা তাদের নেই। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ভারতীয় প্রতিনিধিদলের সব খেলা, খেলোয়াড়, কোচ এবং সংশ্লিষ্ট সদস্যকে একই নীতির আওতায় বিবেচনা করা হয়। ফলে ক্রিকেটারদের জনপ্রিয়তা বা আন্তর্জাতিক মর্যাদার কারণে তাঁদের জন্য বাড়তি সুবিধা দেওয়ার সুযোগ নেই।
তবে বিসিসিআইকে পুরোপুরি বিকল্পহীনও রাখা হয়নি। বোর্ড চাইলে নিজেদের অর্থে আলাদা হোটেলের ব্যবস্থা করতে পারবে। সে ক্ষেত্রে শুধু হোটেল ভাড়া বহন করলেই হবে না; খেলোয়াড়দের থাকা, খাবার, যাতায়াত এবং প্রতিদিন নির্ধারিত সময়ে অনুশীলন ও ম্যাচের মাঠে পৌঁছানোর পুরো দায়িত্বও বোর্ডকেই নিতে হবে।
অর্থাৎ, ভারতীয় অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন বিশেষ সুবিধা দিতে রাজি না হলেও বিসিসিআইকে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ক্রিকেটারদের রাখার স্বাধীনতা দিয়েছে। এখন বোর্ডের প্রতিনিধিদলের জাপান সফরের পরই বিষয়টি কোন দিকে গড়ায়, তা স্পষ্ট হবে।
এশিয়ান গেমসে ক্রিকেট ভারতের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ একটি ইভেন্ট। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ব্যস্ত সূচির সঙ্গে এ ধরনের বহুক্রীড়া আসরের সময়সূচি সমন্বয় করাও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্য একটি বড় ব্যবস্থাপনার বিষয়। আবাসন, যাতায়াত ও অনুশীলনের সুবিধা নিয়ে তাই দুই পক্ষের সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিসিসিআই শেষ পর্যন্ত নিজস্ব ব্যবস্থাপনা বেছে নিলে ক্রিকেটারদের দৈনন্দিন সব সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অতিরিক্ত ব্যয়ের দায়ও তাদেরই বহন করতে হবে।










