পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব ও দপ্তর বণ্টন নিয়ে সম্প্রতি নানা গুঞ্জন ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক আলোচনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। মন্ত্রণালয়-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রের দাবি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বর্তমানে নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন। তাঁর দুই মাসের এই যুক্তরাষ্ট্র সফরের সুযোগ নিয়ে তাঁর অনুপস্থিতিতেই তাঁর ব্যবহৃত প্রধান দাপ্তরিক রুমটি দখলে নিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। কেবল রুম দখলই নয়, ওই কক্ষের সঙ্গে যুক্ত ওয়াশরুমের পরিসর ভেঙে বড় আকারে একটি বিলাসবহুল বাথরুম তৈরির কাজ চলছে বলেও প্রশাসনের অন্দরে জোর আলোচনা রয়েছে। তবে রুম ব্যবহারের অনুমতি বা এই সংস্কার কাজের বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক স্পষ্টীকরণ দেওয়া হয়নি।
অন্যদিকে, মন্ত্রণালয়ের দুই প্রতিমন্ত্রীর কর্মপরিধি ও দাপ্তরিক অবস্থান নিয়েও শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। গত ২৩ আগস্ট জারি করা এক সরকারি পরিপত্র অনুযায়ী, হুমায়ুন কবিরকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ এবং শামা ওবায়েদ ইসলামকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ হিসেবে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এরপর থেকেই শামা ওবায়েদকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দাপ্তরিক সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ড থেকে কার্যত দূরে বা ‘একঘরে’ করে রাখার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের দায়িত্ব গ্রহণ অনুষ্ঠানে শামা ওবায়েদের অনুপস্থিতি সেই গুঞ্জনকে আরও উসকে দিয়েছে। যদিও এই অনুপস্থিতির সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে তাঁর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি, ফলে পরিকল্পিতভাবে দূরত্ব তৈরি হচ্ছে কি না তা নিয়ে ধূম্রজাল রয়ে গেছে।
এই প্রশাসনিক অস্থিরতার পাশাপাশি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের দ্বৈত নাগরিকত্ব বা ব্রিটিশ পাসপোর্ট ইস্যু নিয়েও রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। যুক্তরাজ্য বিএনপির একাধিক নেতার দাবি অনুযায়ী তিনি একসময় ব্রিটিশ নাগরিক ছিলেন। যদিও তাঁর একটি পুরোনো ব্রিটিশ পাসপোর্টের মেয়াদ ২০১৭ সালে উত্তীর্ণ হয়ে গেছে, তবুও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার আগে তিনি যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় ব্রিটিশ নাগরিকত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে ত্যাগ করেছিলেন কি না, তা নিয়ে স্পষ্ট কোনো প্রামাণ্য নথি বা ব্যাখ্যা এখনো জনসমক্ষে আসেনি। ২৪ আগস্ট সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এই বিষয়ে সরাসরি উত্তর না দিয়ে উল্টো ক্ষোভ প্রকাশ করায় সন্দেহের ডালপালা আরও বিস্তার লাভ করেছে। এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সাংবিধানিক কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি বলে মন্তব্য করলেও জনমনে থাকা আইনি ও নৈতিক প্রশ্নগুলো পুরোপুরি দূর হয়নি। সব মিলিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে রুম দখল, দুই প্রতিমন্ত্রীর মধ্যকার দূরত্ব এবং প্রতিমন্ত্রীর নাগরিকত্ব বিতর্ক—এই ত্রিমুখী সংকটে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভেতরের পরিবেশ এখন বেশ উত্তপ্ত।









