চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত এইচএসসি পরীক্ষার্থী মাহিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর সকাল পৌনে ১০টার দিকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর কয়েকদিন ধরে জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করেও শেষ পর্যন্ত বাঁচানো গেল না এই তরুণ শিক্ষার্থীকে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২ সেপ্টেম্বর হাটহাজারী-নাজিরহাট সড়কের মির্জাপুর ইউনিয়নের চারিয়া বোর্ড স্কুলের সামনে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে মাইক্রোবাসের সংঘর্ষ হয়। ওই সময় অটোরিকশায় থাকা মাহিনসহ চারজন এইচএসসি পরীক্ষার্থী আহত হন। দুর্ঘটনাটি সড়কে চলাচলকারী মানুষের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি করে।
সংঘর্ষের পর ঘটনাস্থলেই সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক মো. এরশাদ, ৩৫, মারা যান। একই ঘটনায় মাইক্রোবাসে থাকা আরও তিনজন আহত হন। দুর্ঘটনার তীব্রতায় কয়েকজনের আঘাত গুরুতর হওয়ায় তাঁদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়।
মাহিনের অবস্থাও শুরু থেকেই আশঙ্কাজনক ছিল। দুর্ঘটনার পর তাঁকে চট্টগ্রামে চিকিৎসা দেওয়া হয়। কিন্তু শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়। পরে তাঁকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে কয়েকদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর সোমবার সকালে তাঁর মৃত্যু হয়।
একজন এইচএসসি পরীক্ষার্থীর এমন আকস্মিক মৃত্যু পরিবার, সহপাঠী ও স্থানীয়দের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে। সামনে ছিল তাঁর পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা স্বপ্ন। দুর্ঘটনার এক মুহূর্তে সেই সম্ভাবনাময় পথ থেমে গেল।
ওই দুর্ঘটনায় আহত অন্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে তৌসিফ আহমেদ রাফি ও এরফানুল আনোয়ার ফাহিমের পরিচয় জানা গেছে। তাঁদেরসহ আহত কয়েকজনকে দুর্ঘটনার পর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। আহতদের চিকিৎসা নিয়েও স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ ছিল।
স্থানীয় বাসিন্দারা মাহিনের মৃত্যুকে অত্যন্ত বেদনাদায়ক বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁদের ভাষ্য, একটি সড়ক দুর্ঘটনায় এক তরুণ শিক্ষার্থীর প্রাণহানি শুধু একটি পরিবারের জন্য নয়, তাঁর সহপাঠী ও পরিচিতজনদের জন্যও অপূরণীয় ক্ষতি। তাঁরা শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।
হাটহাজারী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহিদুর রহমান জানান, মাহিনের মরদেহ ঢাকা থেকে হাটহাজারীর নাঙ্গলমোড়ায় আনা হচ্ছে বলে তাঁরা পারিবারিক সূত্রে জানতে পেরেছেন। দুর্ঘটনার ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
একই ঘটনায় অটোরিকশাচালকের ঘটনাস্থলে মৃত্যু এবং একাধিক যাত্রীর আহত হওয়ার পর দুর্ঘটনার কারণ ও দায় নির্ধারণে আইনগত প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। মাহিনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে ওই দুর্ঘটনায় প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়ল। পরিবারের কাছে এখন সবচেয়ে বড় বাস্তবতা—একজন তরুণ শিক্ষার্থীর অকালমৃত্যুর শোক এবং তাঁর রেখে যাওয়া অপূর্ণ স্বপ্ন।









