জিলাইভ [ GLive ] | truth alone triumphs

প্রেমঘটিত হত্যাকাণ্ডে দুই ভাইয়ের মৃত্যুদণ্ড

ময়মনসিংহে এক কিশোরী বোনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক মেনে নিতে না পেরে কিশোরকে ডেকে নিয়ে হত্যা এবং পরে মরদেহ গুম করার ঘটনায় দুই ভাইকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (ভারপ্রাপ্ত) সামছুদ্দিন এই রায় ঘোষণা করেন।

রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত জানায়, ঘটনাটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত এবং পারিবারিক বিরোধ থেকে উদ্ভূত সহিংসতার একটি গুরুতর উদাহরণ। আদালত আরও জানায়, সমাজে এমন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়, বিশেষ করে যখন তা একজন কিশোরের প্রাণহানির মতো চূড়ান্ত পরিণতি ডেকে আনে।

মামলার নথি অনুযায়ী, ময়মনসিংহ সদর উপজেলার দশম শ্রেণির ছাত্র সৈকত হাসান (১৫) স্থানীয় এক কিশোরীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি জানাজানি হলে মেয়েটির পরিবার তা মেনে নেয়নি। এরপরই পরিকল্পিতভাবে সৈকতকে বাড়িতে ডেকে নেওয়া হয়।

২০২১ সালের ১৯ মে রাতে সৈকতকে ওই কিশোরীর বাড়িতে ডাকা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। সে যাওয়ার আগে এক বন্ধুকে বিষয়টি জানিয়েছিল বলে জানা যায়। এরপর থেকেই তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

পরবর্তীতে ২১ মে ওই বছরেরই একটি নির্জন স্থানে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় সৈকতের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

এ ঘটনায় নিহত কিশোরের বাবা আকরাম হোসেন ২২ মে কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় মোট ১৪ জনকে আসামি করা হয়। তদন্ত শেষে পুলিশ ২০২২ সালের ১৪ জানুয়ারি কিশোরীর বাবা, চাচা এবং দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।

রায়ের সময় আদালতে তিনজন আসামি উপস্থিত থাকলেও একজন পলাতক ছিলেন। রায় ঘোষণার পর উপস্থিত আসামিদের কারাগারে পাঠানো হয় বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন সহকারী সরকারি কৌঁসুলি আবু হানিফ খান। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী রফিকুল ইসলাম খান।

এ ছাড়া আদালত কিশোরীর বাবা ও চাচাকে পৃথকভাবে সাত বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেন। জরিমানা অনাদায়ে তাদের ছয় মাস করে অতিরিক্ত কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

এই রায়কে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নিরাপত্তা ছিল। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে দেওয়া এই রায় এলাকায় আলোচিত ঘটনাটির আইনি নিষ্পত্তির পথে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Tags :

বাংলা ডেস্ক । GLive24.com

সর্বশেষ খবর