জিলাইভ [ GLive ] | truth alone triumphs

গাজীপুরে লিথী গ্রুপের পাঁচ কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ

গাজীপুরে চরম আর্থিক সংকট ও গ্যাসের তীব্র সমস্যার কারণে লিথী গ্রুপের অধীনস্থ পাঁচটি পোশাক কারখানা একযোগে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে মালিকপক্ষ। হঠাৎ করে নেওয়া এই সিদ্ধান্তের ফলে কারখানাগুলোতে কর্মরত প্রায় আড়াই হাজার শ্রমিক মুহূর্তের মধ্যে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। গতকাল বুধবার গাজীপুর সদর উপজেলার বাঘের বাজার এলাকায় কারখানার প্রধান ফটকে বন্ধের নোটিশ টানিয়ে দেওয়া হয়।

লে-অফ বা বন্ধ ঘোষণা করা এই পাঁচ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে এ্যাপারেল-২১ লিমিটেড, ফমকম ফ্যাশন লিমিটেড, ফমকম ডাইং লিমিটেড, ফমকম প্রিন্টিং লিমিটেড ও ফমকম নিটিং লিমিটেড। আকস্মিক এই ঘোষণার পর বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা বকেয়া বেতন পরিশোধ এবং অবিলম্বে কারখানা চালু করার দাবিতে মহাসড়কের পাশে মানববন্ধন করেছেন।

কারখানার প্রধান ফটকে ঝুলিয়ে দেওয়া নোটিশে মালিকপক্ষ বন্ধের পেছনে একাধিক বড় কারণ উল্লেখ করেছে। সেখানে বলা হয়, কারখানায় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাসের সংযোগ না থাকা, আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন পোশাকের ক্রয়াদেশ বা অর্ডার কমে যাওয়া এবং ভবিষ্যতে নতুন কোনো অর্ডারের নিশ্চয়তা না থাকা এই সংকটের মূল কারণ। একই সঙ্গে বিগত বছরগুলোতে দফায় দফায় অযৌক্তিক শ্রম আন্দোলনের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হওয়া, তৈরি পোশাকের বৈশ্বিক বিক্রয়মূল্য উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাওয়া এবং সময়মতো ব্যাংক থেকে ঋণ ও আর্থিক সহায়তা না পাওয়ার বিষয়টিকে দায়ী করা হয়েছে। এসব নানামুখী সংকটে কারখানাগুলো দীর্ঘদিন ধরে বিশাল লোকসানের মুখোমুখি হচ্ছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে কারখানা চালু রাখার মতো প্রয়োজনীয় আর্থিক সামর্থ্য মালিকপক্ষের আর নেই।

তবে নোটিশে শ্রমিকদের আশ্বস্ত করে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এবং ব্যবসা পরিচালনার অনুকূল পরিবেশ তৈরি হলে পুরোনো ও দক্ষ কর্মীদের কাজে ফেরার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এছাড়া সরকারের সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সমঝোতার ভিত্তিতে শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও সব আইনি পাওনা পরিশোধের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

কারখানা বন্ধের নোটিশ দেখে গতকাল সকাল ১০টার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বাঘের বাজার এলাকায় জড়ো হন শত শত শ্রমিক। সেখানে তারা নিজেদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে একটি শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন। শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আর্থিক সংকটের অজুহাত দেখিয়ে গত ৭ জুন থেকেই ‘ফমকম ফ্যাশন লিমিটেড’ কারখানাটি বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ১৩ (১) ধারা অনুযায়ী প্রথম দফায় বন্ধ করেছিল কর্তৃপক্ষ। সেই সময় শ্রমিকদের মে মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধের জন্য ২৩ জুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু মালিকপক্ষ সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারেনি এবং নির্ধারিত দিনে বেতন দিতে ব্যর্থ হয়। ফলে বাধ্য হয়েই তারা বকেয়া বেতন এবং আইনি পাওনা আদায়ের জন্য রাজপথে নেমেছেন।

কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে মালিকপক্ষের কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তাকে এলাকায় পাওয়া যায়নি। নোটিশে দেওয়া জরুরি যোগাযোগ নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলেও ওপাশ থেকে কোনো সাড়া মেলেনি। গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন এই বিষয়ে জানান, ব্যবসায়িক ও আর্থিক নানা সীমাবদ্ধতার কারণ দেখিয়ে মালিকপক্ষ কারখানাগুলো বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শিল্প এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

শ্রমিকদের এই অনিশ্চয়তা দূর করতে সরকারি সংস্থাগুলো কাজ শুরু করেছে। গাজীপুরে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপমহাপরিদর্শক প্রকৌশলী এম এম মামুন-অর-রশিদ আমাদের প্রতিনিধি কে বলেন, শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা এবং সামগ্রিক সংকট সমাধানের লক্ষ্যে দ্রুততম সময়ের মধ্যে টঙ্গীর আঞ্চলিক কার্যালয়ে একটি ত্রিপক্ষীয় জরুরি বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে। মালিকপক্ষ, শ্রমিক প্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ওই বৈঠকে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য সমাধান আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

Tags :

বাংলা ডেস্ক । GLive24.com

সর্বশেষ খবর