জি-লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ই জুলাই ২০২৬, ১:৯ পিএম

রাজশাহীতে পদ্মা নদীতে ঝাওগাছবোঝাই নৌকা ডুবে যাওয়ার ২০ ঘণ্টা পার হলেও নিখোঁজ বাবা ও ছেলের সন্ধান মেলেনি। নিখোঁজদের উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ডুবুরি দল দ্বিতীয় দিনের মতো উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছে। পদ্মার তীব্র স্রোতের কারণে উদ্ধার তৎপরতা বিঘ্নিত হওয়ায় নদীর আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিখোঁজ ব্যক্তিরা হলেন রাজশাহী জেলার পবা উপজেলার শ্যামপুর এলাকার শান্তিনগরের বাসিন্দা আফছার আলী (৬০) এবং তার ছেলে জিয়ারুল ইসলাম (৪০)।
মঙ্গলবার দুপুরে চরখানপুর এলাকার পদ্মার চর থেকে ঝাওগাছ সংগ্রহ করে একটি নৌকায় নিয়ে তারা নিজ বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। রাজশাহীর বড়কুঠি সংলগ্ন পদ্মা নদীর অংশে পৌঁছালে তীব্র স্রোত ও ঢেউয়ের তোড়ে নৌকাটি নিমজ্জিত হয়। এ সময় নৌকায় থাকা জিয়ারুল ইসলামের মা জাহেরা বেগম (৫৫) অলৌকিকভাবে সাঁতরে বা স্থানীয়দের সহায়তায় প্রাণে বেঁচে যান। তবে মুহূর্তের মধ্যেই পানির নিচে তলিয়ে যান আফছার আলী ও তার ছেলে জিয়ারুল।
ঘটনার খবর পেয়ে রাজশাহী ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের একটি ডুবুরি দল দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করে। প্রথম দিনে রাত পর্যন্ত উদ্ধার তৎপরতা চালানো হলেও প্রতিকূল আবহাওয়া এবং পানির তীব্র প্রবাহের কারণে তাদের কোনো হদিস মেলেনি। পরবর্তীতে বুধবার সকাল থেকে দ্বিতীয় দিনের মতো ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার কাজ শুরু করেন।
রাজশাহী সদর ফায়ার সার্ভিসের ডেপুটি ডিরেক্টর ফরহাদ হোসেন উদ্ধার অভিযানের অগ্রগতি সম্পর্কে জানান, নদীতে প্রচণ্ড স্রোত থাকার কারণে ডুবুরিদের নদীর তলদেশে কাজ করতে বেগ পেতে হচ্ছে। দুর্ঘটনাস্থল বড়কুঠি হলেও নদীর পানির গতিপথ ও স্রোতের কথা মাথায় রেখে ভাটির দিকের এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের টিমগুলো নদীর তীরবর্তী বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিয়েছে এবং স্থানীয় থানা ও নৌ-পুলিশের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে। নদীর কোথাও কোনো মরদেহ ভেসে উঠলে বা সন্ধান পাওয়া গেলে দ্রুত ফায়ার সার্ভিসকে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নিখোঁজ আফছার আলীর স্ত্রী ও জিয়ারুলের মা জাহেরা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “চোখের সামনেই নৌকাটা ডুবে গেল। সাধারণত পানিতে কেউ ডুবলে কিছুক্ষণ পর ভেসে ওঠে, কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও তাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। জীবিত না হোক, অন্তত লাশ দুটি শেষবারের মতো দেখতে পাব কি না, আল্লাহ ভালো জানেন।” জিয়ারুল ইসলামের পরিবারের ওপর এই মর্মান্তিক ঘটনায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। স্থানীয় বাসিন্দারাও স্বজনদের এই বিপদে উদ্ধারের অপেক্ষায় নদীর পাড়ে ভিড় জমিয়েছেন।
মন্তব্য