সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখে অপরাজিত থেকে ফাইনালে উত্তীর্ণ হয়েছে বাংলাদেশ দল। আজ নেপালের পোখারার রঙ্গশালা স্টেডিয়ামে স্বাগতিক নেপালকে ৪-০ গোলের বড় ব্যবধানে পরাজিত করে অর্পিতা-মুনকিরা। এই জয়ে গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচেই জয়লাভ করে পূর্ণ ৯ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে থেকে ফাইনাল নিশ্চিত করল বাংলাদেশের কিশোরীরা।
ম্যাচের গতিপ্রকৃতি ও আধিপত্য
ম্যাচের শুরু থেকেই নেপালি রক্ষণভাগের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করে বাংলাদেশ। যার ফলশ্রুতিতে ম্যাচের মাত্র ৩ মিনিটেই লিড পায় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। মামনি চাকমার একটি চমৎকার কর্নার কিক থেকে নিখুঁত হেডে বল জালে জড়ান প্রতিমা মুন্ডা। দ্রুত গোল হজম করার পর নেপাল তাদের রক্ষণভাগকে কিছুটা সুসংহত করার চেষ্টা করলে দ্বিতীয় গোলের জন্য বাংলাদেশকে প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে সরাসরি ফ্রি-কিক থেকে এক দর্শনীয় গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন আলপি আক্তার।
দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশের আক্রমণাত্মক ফুটবল আরও জোরালো হয়। ৬৭ মিনিটে পাল্টা আক্রমণ থেকে একক নৈপুণ্যে নেপালের রক্ষণভাগ তছনছ করে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন আলপি। এরপর ৮২ মিনিটে ক্রানুসিং মারমার একটি নিখুঁত ক্রস থেকে লক্ষ্যভেদ করে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন এই ফরোয়ার্ড। চলতি টুর্নামেন্টে তিন ম্যাচে এটি আলপির সপ্তম গোল, যা তাকে গোলদাতার তালিকায় শীর্ষে নিয়ে এসেছে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও ফাইনাল সমীকরণ
সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ের ইতিহাসে বাংলাদেশ এর আগেও দুইবার ফাইনালে উঠেছিল এবং মজার ব্যাপার হলো, প্রতিবারই তাদের প্রতিপক্ষ ছিল ভারত। ২০২১ সালে ভারতকে হারিয়ে বাংলাদেশ এককভাবে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছিল। আর ২০২৪ সালের আসরে বাংলাদেশ ও ভারত যুগ্মভাবে চ্যাম্পিয়ন ঘোষিত হয়। আগামী শনিবার পোখারার এই মাঠেই শিরোপার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশ।
নিচে গ্রুপ পর্বের ফলাফল এবং ফাইনালের সময়সূচী সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
| বিভাগ | বিস্তারিত তথ্য |
| বিপক্ষ দল | নেপাল অনূর্ধ্ব-১৯ নারী দল |
| ফলাফল | বাংলাদেশ ৪ – ০ নেপাল |
| ম্যাচ ভেন্যু | রঙ্গশালা স্টেডিয়াম, পোখারা, নেপাল |
| স্কোরার (বাংলাদেশ) | আলপি আক্তার (হ্যাটট্রিক), প্রতিমা মুন্ডা (১) |
| গ্রুপ পর্বের পয়েন্ট | ৯ পয়েন্ট (টানা ৩ জয়) |
| ফাইনালের প্রতিপক্ষ | ভারত |
| ফাইনালের তারিখ | আগামী শনিবার |
ভারতের অবস্থান ও চূড়ান্ত প্রস্তুতি
দিনের অন্য ম্যাচে ভুটানকে পরাজিত করে ৬ পয়েন্ট নিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে ভারত। দক্ষিণ এশিয়ার নারী ফুটবলে বাংলাদেশ ও ভারত বর্তমানে সমশক্তির দল হিসেবে স্বীকৃত। আজকের ম্যাচে আলপি আক্তারের হ্যাটট্রিক এবং রক্ষণভাগের দৃঢ়তা ফাইনালে বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাসকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। কোচ এবং ফুটবল বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি আজকের ফর্ম ধরে রাখা যায়, তবে বাংলাদেশের সামনে এককভাবে শিরোপা জয়ের সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে।
পোখারার তীব্র শীত উপেক্ষা করে বাংলাদেশের মেয়েরা যেভাবে মাঠের লড়াইয়ে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করছে, তা দেশের ফুটবলাঙ্গনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। আগামী শনিবারের ফাইনালে গোটা দেশের নজর থাকবে পোখারার রঙ্গশালা স্টেডিয়ামের দিকে।
