নিউজিল্যান্ডে নারী-পুরুষের বায়োলজিক্যাল সংজ্ঞা চেয়ে নতুন আইন প্রস্তাব

নিউজিল্যান্ডের শাসক জোটের অংশীদার নিউজিল্যান্ড ফার্স্ট পার্টি মঙ্গলবার সংসদে একটি খসড়া আইন উপস্থাপন করেছে, যাতে নারী ও পুরুষের “বায়োলজিক্যাল সংজ্ঞা” স্পষ্ট করার দাবি জানানো হয়েছে। দলটি এটিকে তথাকথিত ‘জাগ্রত মতাদর্শ’ (ওক আইডিওলজি)-এর বিরুদ্ধে একটি পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

দীর্ঘদিন ধরে ট্রান্সজেন্ডার নারীদের নারী টয়লেট ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা ও নারীদের ক্রীড়ায় অংশগ্রহণ ঠেকানোর পক্ষে প্রচার চালিয়ে আসা দলটি বলছে, সমাজে নারীর অধিকার ও নিরাপত্তা রক্ষায় এই ধরনের আইন জরুরি।

প্রস্তাবিত বিল অনুযায়ী, একজন নারীকে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে “প্রাপ্তবয়স্ক মানব বায়োলজিক্যাল নারী” হিসেবে এবং একজন পুরুষকে “প্রাপ্তবয়স্ক মানব বায়োলজিক্যাল পুরুষ” হিসেবে।

নিউজিল্যান্ড ফার্স্ট পার্টির নেতা ও উপ-প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন পিটার্স বলেন, “দেশে এবং বিশ্বজুড়ে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো প্রমাণ করেছে যে আমরা সাধারণ জ্ঞানের পথে ফিরে যাচ্ছি। এই বিল সেই প্রত্যাবর্তনেরই প্রতিফলন।”

ব্রিটেনের সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক এক রায়—যেখানে নারীর আইনি সংজ্ঞাকে জন্মের সময় নির্ধারিত লিঙ্গের উপর ভিত্তি করে নির্ধারণ করা হয়—তার ঠিক এক সপ্তাহ পরেই নিউজিল্যান্ডে এই বিল আনা হলো।

তবে এই খসড়া বিলটি সংসদে কতটা গুরুত্ব পাবে তা স্পষ্ট নয়, কারণ এটি সরকারের পক্ষ থেকে নয় বরং একজন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যের মাধ্যমে উপস্থাপিত হয়েছে।

বিরোধী দল লেবার পার্টির নেতা ক্রিস হিপকিন্স বিলটির উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, “পিটার্স কেবল শিরোনামে থাকার জন্য জনপ্রিয় ও বিতর্কিত বিষয় সামনে আনছেন। দেশকে এগিয়ে নেওয়ার মতো কোনো সুসংগঠিত পরিকল্পনা তাদের নেই।”

তিন দলীয় জোট সরকারের সবচেয়ে ছোট অংশীদার হওয়ায়, বিলটি পাস করানোর মতো পর্যাপ্ত সমর্থন আদায় করতে পারবে কি না, তা নিয়েও সংশয় রয়েছে।

তবে পিটার্সের দাবি, “এই বিল আমাদের সমাজকে বিভ্রান্তিকর মতাদর্শ থেকে বের করে আনার পথ তৈরি করবে এবং নারীদের মর্যাদা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করবে।”