খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ই জুন ২০২৬, ৯:৫৬ পিএম

নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত এক কয়েদির আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২৯ জুন) রাতে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ঘটনাটি পরদিন মঙ্গলবার বিকেলে জানাজানি হলে গণমাধ্যমকর্মীরা নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মোহাম্মদ ফোরকান ওয়াহিদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং তিনি মৃত্যুর এই বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
কারাগার ও পুলিশ প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মৃত কয়েদির নাম জাহাঙ্গীর (৩৮)। তিনি নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার বানিয়াপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুর রহিমের ছেলে। ২০১৪ সাল থেকে তিনি জেলার রূপগঞ্জ থানার একটি চাঞ্চল্যকর ফৌজদারি মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়ে এই কারাগারে সাজা ভোগ করছিলেন। দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে তিনি কয়েদি হিসেবে বন্দিজীবন কাটাচ্ছিলেন।
কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, গত রোববার (২৮ জুন) দুপুরের দিকে কারাগারের ভেতরেই জাহাঙ্গীর হঠাৎ বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করেন। প্রাথমিকভাবে তাকে কারা হাসপাতালের চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার শারীরিক অবস্থার অবণতি হলে এবং হৃদরোগে (হার্ট অ্যাটাক) আক্রান্ত হয়েছেন বলে সন্দেহ করা হলে, কারা কর্তৃপক্ষের বিশেষ নজরদারিতে তাকে দ্রুত নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকেরা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে ওয়ার্ডে ভর্তি করে নিবিড় চিকিৎসা শুরু করেন।
এরপর প্রায় ৩০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে হাসপাতালের চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে থাকার পর, সোমবার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়েই তার মৃত্যু হয়েছে। তবে কারাগারের নিয়ম অনুযায়ী কয়েদির মৃত্যুর পর আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কিছুটা সময় লাগে।
মঙ্গলবার সকালে হাসপাতাল মর্গে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে নিহতের লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। এরপর দুপুরের দিকে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে লাশের ময়নাতদন্ত (পোস্টমর্টেম) সম্পন্ন হয়। কোনো বন্দির কারাগারে বা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হলে ময়নাতদন্ত করা আইনি বাধ্যবাধকতা।
নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারের সুপার মোহাম্মদ ফোরকান ওয়াহিদ জানান, জাহাঙ্গীরের মৃত্যুর পর সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া ও ময়নাতদন্তের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়েছে। এরপর বিকেলে দাফন-কাফনের জন্য তার মরদেহ পরিবারের স্বজনদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। জাহাঙ্গীরের আড়াইহাজারের গ্রামের বাড়িতে মরদেহ পৌঁছানোর পর সেখানে এক শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এই ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা রুজু করা হয়েছে বলে থানা পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
মন্তব্য