রাজধানীর ধানমন্ডির মধুবাজার এলাকায় একটি আবাসিক ভবনে বিদ্যুতের তার কাটতে গিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় মো. রাসেল (২২) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যা আনুমানিক সাতটার দিকে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাত সাড়ে ৯টায় তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাসেলের মূল বাড়ি নরসিংদী জেলার মাধবদী থানায়। তিনি পরিবারের সঙ্গে মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজার এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। পেশায় তিনি ছিলেন একজন ফুল ও বেলুন বিক্রেতা। রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে ফুল ও শিশুদের বেলুন বিক্রি করে সংসার চালাতেন। তিন ভাই ও তিন বোনের মধ্যে রাসেল ছিলেন সবার ছোট। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত এবং এক সন্তানের জনক ছিলেন। তার বাবার নাম মো. আক্তার হোসেন।
ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে ধানমন্ডি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. ফারুক খান জানান, শনিবার সন্ধ্যার দিকে মধুবাজার এলাকার একটি বাসার সামনে এক যুবক অচেতন হয়ে পড়ে আছেন বলে খবর আসে। খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সেখানে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় ওই যুবককে উদ্ধার করে সোজা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, রাসেল বিদ্যুতের তামার তার চুরি করার উদ্দেশ্যে মধুবাজারের ওই বাসায় গিয়েছিলেন। ভবনটির পাশ দিয়ে চলে যাওয়া একটি সচল বিদ্যুতের সংযোগ দেখতে পেয়ে তিনি সেটি হাত দিয়ে ছিঁড়ে নেওয়ার চেষ্টা চালান। কিন্তু খালি হাতে সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করতে ব্যর্থ হয়ে একপর্যায়ে দাঁত দিয়ে তারটি কামড়ে কাটার চেষ্টা করেন। দাঁত দিয়ে তারে কামড় দেওয়ার মুহূর্তেই শক্তিশালী বিদ্যুতের তীব্র শকে ছিটকে নিচের পাকা রাস্তার ওপর পড়ে যান তিনি। মাথায় অতিরিক্ত আঘাতের পাশাপাশি শরীর বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ায় রাসেলের অবস্থা শুরু থেকেই আশঙ্কাজনক ছিল।
এই খবর বাসায় পৌঁছানোর পর থেকেই স্বজনদের মধ্যে শোকের মাতম শুরু হয়েছে। সংসারের অন্যতম উপার্জনক্ষম মানুষকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তার স্ত্রী ও বাবা-মা। হঠাৎ ঘটে যাওয়া এমন ঘটনায় হতবাক প্রতিবেশীরাও। বর্তমানে রাসেলের মৃতদেহটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি মর্গে রাখা রয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষ হলে এবং আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হবে বলে ধানমন্ডি থানা পুলিশ নিশ্চিত করেছে।









