জিলাইভ বাংলা | সত্যের জয় অবধারিত

কড়াইল বস্তিতে কবুতরের ব্যবসার আড়ালে মাদক কারবার, নগদ টাকাসহ গ্রেপ্তার ৩

রাজধানীর মহাখালীর কড়াইল বস্তিতে কবুতর বিক্রি ও ক্ষুদ্র ঋণ সমিতির ব্যবসার আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত একটি বড় আকারের মাদক চক্রের সন্ধান পেয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা নজরদারির ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদক ও ৪৩ লাখের বেশি নগদ টাকাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—ওই এলাকার চিহ্নিত মাদক কারবারের কথিত গডফাদার ‘কবুতর মমিন’-এর স্ত্রী নুরুন্নাহার (৪০), মো. রানা (৩৮) এবং মো. আশরাদুল ইসলাম (২৮)।

শনিবার রাতে সংবাদমাধ্যমের সামনে এই অভিযানের খুঁটিনাটি তুলে ধরেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা মেট্রো (উত্তর) কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. রাজিউর রহমান। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে ডিএনসির একটি টিম কড়াইল বস্তির সন্দেহভাজন কয়েকটি স্পটে নজরদারি চালিয়ে আসছিল। গোয়েন্দা সূত্র থেকে খবর আসে যে ডিএনসির তালিকাভুক্ত অপরাধী ‘কবুতর মমিন’-এর বসতঘরে বিক্রির উদ্দেশ্যে বিশাল মাদকের চালান জমা রাখা হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে সংস্থাটির পাঁচটি পৃথক আভিযানিক দল শনিবার কড়াইল বস্তিতে সম্মিলিত অভিযান চালায়। একই সময়ে মমিনের কবুতরের দোকান, তার নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত সমিতি ঘর, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের দোকান এবং তার বসতবাড়িতে আকস্মিক তল্লাশি চালানো হয়।

তল্লাশি চালিয়ে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের হেফাজত থেকে ৬১০ গ্রাম উচ্চমানের হেরোইন, ২৫৩ পিস ইয়াবা বড়ি, বেশ কিছু বোতল বিদেশি মদ এবং পরিমাণমতো গাঁজা উদ্ধার করেন ডিএনসির সদস্যরা। এর পাশাপাশি মাদক বিক্রির অর্জিত নগদ ৪৩ লাখ ৬ হাজার ১৪০ টাকা জব্দ করা হয়। তবে আভিযানিক দলগুলোর উপস্থিতি টের পেয়ে মূল হোতা ও চিহ্নিত গডফাদার ‘কবুতর মমিন’ কৌশলে সটকে পড়েন। তাকে আইনের আওতায় আনতে বেশ কয়েকটি টিম কাজ করছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ডিএনসির প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার নুরুন্নাহার স্বীকার করেন যে, অবৈধ মাদকের কেনাবেচা ঢাকা পড়ে রাখতেই তারা লোকচক্ষুর সামনে কবুতর বিক্রি, ডিপিএস সমিতি পরিচালনা এবং মোবাইল ব্যাংকিংয়ের আউটলেট খুলেছিলেন। মূলত এগুলো ছিল তাঁদের অপরাধ ঢেকে রাখার ঢাল। মাদক চালানের অর্জিত বিপুল অর্থ নগদ হাতবদলের পাশাপাশি নিজস্ব মোবাইল ব্যাংকিং পার্সোনাল ও এজেন্ট অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে লেনদেন করা হতো, যাতে সাধারণ মানুষের চোখে তা স্বাভাবিক ব্যবসা মনে হয়।

একই অভিযান পরিচালনাকালে কড়াইল বস্তির ভেতরে মাদক সেবনরত অবস্থায় আরও চারজনকে হাতেনাতে ধরে ফেলে ডিএনসির টিম। পরে ঘটনার স্থানে উপস্থিত থাকা ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাৎক্ষণিকভাবে আটক চারজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। কড়াইলের মতো দেশের অন্যতম বড় ঘনবসতিপূর্ণ বস্ত এলাকায় এভাবে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের আড়ালে তৈরি হওয়া মাদক নেটওয়ার্কগুলো শিকড়সহ উপড়ে ফেলতে এই ধরনের ঝটিকা অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে বলে জোর দিয়েছেন ডিএনসি কর্মকর্তারা।

Tags :

বাংলা ডেস্ক । GLive24.com

সর্বশেষ খবর