রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীদের আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা ও দৈনন্দিন সমস্যাগুলো দূর করতে নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলাম। চার বছরের দায়িত্ব পালনকালে শিক্ষার্থীদের মৌলিক সংকটগুলোর দৃশ্যমান কোনো সমাধান করতে না পারলে তিনি আর দ্বিতীয়বার তাঁদের মুখোমুখি হবেন না বলেও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিতে আয়োজিত কেন্দ্রীয় নবীনবরণ অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য এই মন্তব্য করেন।
নিজের নতুন প্রশাসনের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে উপাচার্য বলেন, চার বছরের সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের যাবতীয় সমস্যার শতভাগ সমাধান হয়তো কঠিন হতে পারে। তবে তাঁর প্রশাসন অন্তত সংকটগুলো সমাধানের মূল বাধাগুলো চিহ্নিত করে একটি স্থায়ী ও সুনির্দিষ্ট পথ তৈরি করে যেতে চায়। ইতিমধ্যেই আবাসিক হলগুলোর তীব্র সিট সংকট নিরসন, মেডিকেল সেন্টারের আধুনিকায়ন ও মানোন্নয়ন এবং ক্যাম্পাসে সুবিধাজনক স্থানে ভাসমান ক্যান্টিন স্থাপনসহ একাধিক অতিজরুরি বিষয় নিয়ে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যানের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। কমিশন এসব জরুরি বিষয়ে পূর্ণ সহযোগিতা দেবে এবং অতি দ্রুত প্রশাসনের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে সংকটগুলোর বাস্তবমুখী সমাধান আনবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
নতুন পথচলা শুরু করা শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে আবেগাপ্লুত উপাচার্য বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর পাঁচ মাসে অসংখ্য অনুষ্ঠানে যোগ দিলেও নবীনদের বরণ করার এই মুহূর্তটি তাঁর কাছে সবচেয়ে বিশেষ ও সেরা মনে হয়েছে। মতিহারের সবুজ চত্বরে পা রাখা এই তরুণ-তরুণীরাই আগামী দিনের বাংলাদেশের মূল চালিকাশক্তি হতে যাচ্ছে।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ নবীনদের উদ্দেশ্যে বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রাচ্যের ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠে জায়গা করে নেওয়া মেধা ও দীর্ঘ অধ্যবসায়ের প্রতীক। তবে কেবল মেধা নয়, সাফল্যের শিখরে পৌঁছাতে মানসিক আত্মবিশ্বাস ও দায়িত্ববোধ চর্চা করা জরুরি।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থীদের বাকস্বাধীনতা প্রসঙ্গে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, উচ্চশিক্ষার অঙ্গনে মুক্তচিন্তার বিকাশ ও স্বাধীনভাবে মতামত প্রকাশের পরিবেশ অবশ্যই থাকতে হবে। তবে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সাথে সঠিক দায়িত্বশীলতার মেলবন্ধন ঘটাতে হবে, যাতে ক্যাম্পাসের প্রশাসনিক ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ অক্ষুণ্ণ থাকে।
জমকালো এই নবীনবরণ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. আব্দুল আলীম, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুনুর রশীদ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ ও মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যবৃন্দ, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, সিন্ডিকেট সদস্য ও আমন্ত্রিত শিক্ষক-কর্মকর্তারা।









