,

জুবিন গর্গের স্মৃতিতে বাংলাদেশ মিশনের শ্রদ্ধা

আসামের প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী ও গীতিকার জুবিন গর্গের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা জানিয়েছে গুয়াহাটিতে বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের সঙ্গে তাঁর সাংস্কৃতিক যোগাযোগ এবং ২০২২ সালে গুয়াহাটিতে বাংলাদেশের জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানে তাঁর স্মরণীয় সংগীত পরিবেশনার কথাও তুলে ধরেছে মিশনটি।

শনিবার সহকারী হাইকমিশনের যাচাইকৃত ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক শ্রদ্ধাবার্তায় জুবিন গর্গকে অসাধারণ শিল্পী হিসেবে উল্লেখ করা হয়। মিশনটি জানায়, তাঁর সংগীত ও কণ্ঠস্বর ভৌগোলিক সীমারেখা পেরিয়ে অসংখ্য মানুষের হৃদয় ছুঁয়েছিল। তাঁর শিল্পীসত্তার প্রভাব আসামের গণ্ডি ছাড়িয়ে ভারত ও প্রতিবেশী অঞ্চলের শ্রোতাদের কাছেও পৌঁছেছিল।

২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরে ৫২ বছর বয়সে মারা যান জুবিন গর্গ। তাঁর মৃত্যুর পর সিঙ্গাপুরের স্টেট করোনারের তদন্তে মৃত্যুটিকে দুর্ঘটনাজনিত পানিতে ডুবে যাওয়া হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। তদন্তে কোনো ধরনের অপরাধমূলক সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশের সঙ্গে জুবিন গর্গের সম্পর্কের প্রসঙ্গ তুলে ধরে সহকারী হাইকমিশন জানায়, ২০২২ সালে গুয়াহাটির আইটিএ মাচখোয়ায় আয়োজিত বাংলাদেশের জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানে তিনি সংগীত পরিবেশন করেছিলেন। ওই অনুষ্ঠানে তাঁর পরিবেশনা উপস্থিত দর্শকদের জন্য বিশেষ স্মৃতি হয়ে আছে বলে মিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

শ্রদ্ধাবার্তায় বলা হয়, জুবিনের শক্তিশালী কণ্ঠ এবং আকর্ষণীয় মঞ্চ উপস্থিতি সেদিনের আয়োজনকে স্মরণীয় করে তুলেছিল। একজন শিল্পী হিসেবে তাঁর উপস্থিতি অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক আবহকেও সমৃদ্ধ করেছিল।

জুবিন গর্গের সংগীতজীবন মূলত আসামের সাংস্কৃতিক পরিসরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিল। গান গাওয়া, লেখা ও সুর করার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের সংগীতচর্চার মাধ্যমে তিনি নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করেছিলেন। তাঁর কণ্ঠ ও পরিবেশনার ধরন তাঁকে আসামের মানুষের কাছে বিশেষভাবে জনপ্রিয় করে তোলে।

বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশন মনে করে, জুবিন গর্গের সংগীতে ভারত ও বাংলাদেশের অভিন্ন সাংস্কৃতিক সম্পর্কের প্রতিফলন ছিল। দুই দেশের ভৌগোলিক সীমান্ত আলাদা হলেও সংগীত ও শিল্প মানুষের মধ্যে সহজে যোগাযোগ তৈরি করতে পারে—জুবিনের কাজ সেই বাস্তবতার একটি উদাহরণ।

তাঁর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আসামজুড়ে ভক্ত, পরিবারের সদস্য ও সহশিল্পীরা নানা কর্মসূচির মাধ্যমে তাঁকে স্মরণ করেন। এক বছর আগে তাঁর মৃত্যুর পর যে শোক তৈরি হয়েছিল, মৃত্যুবার্ষিকীর আয়োজনগুলোতে সেই আবেগ আবারও প্রকাশ পায়।

গুয়াহাটির কাছে কামারকুচিতে জুবিন গর্গের স্মৃতিসৌধে আয়োজন করা হয় তিন দিনব্যাপী কর্মসূচি। সেখানে তাঁর জীবন, সংগীত এবং শিল্পী হিসেবে তাঁর অবদানের কথা স্মরণ করা হয়। বিভিন্ন আয়োজনের মধ্য দিয়ে তাঁর গান ও সৃষ্টিশীলতার সঙ্গে শ্রোতাদের দীর্ঘ সম্পর্কও সামনে আসে।

বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনের শ্রদ্ধাবার্তায় জুবিন গর্গের এই সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারের কথাই গুরুত্ব পেয়েছে। মিশনটি বলেছে, তাঁর কণ্ঠ থেমে গেলেও তাঁর সংগীত অসংখ্য ভক্তের হৃদয়ে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকবে।

২০২২ সালের বাংলাদেশের জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানে তাঁর অংশগ্রহণের স্মৃতি স্মরণ করে মিশনটি মূলত দুই অঞ্চলের সাংস্কৃতিক যোগাযোগের একটি উল্লেখযোগ্য মুহূর্তকে সামনে এনেছে। সংগীত যে রাষ্ট্রীয় সীমানার বাইরে গিয়ে মানুষের মধ্যে সম্পর্ক ও ঘনিষ্ঠতা তৈরি করতে পারে, জুবিন গর্গের শিল্পীজীবন তার একটি পরিচিত উদাহরণ হয়ে রয়েছে।

শ্রদ্ধাবার্তার শেষাংশে জুবিন গর্গকে এমন একজন শিল্পী হিসেবে স্মরণ করেছে বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশন, যিনি তাঁর সংগীতের মধ্য দিয়ে ভক্তদের হৃদয়ে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকবেন। তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মিশনটি বলেছে, তিনি মানুষের হৃদয়ে ‘চিরকাল’ থেকে যাবেন।

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।