জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব তারেক রেজাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রবিবার (২৪ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ঝিনাইদহ শহরের স্টেডিয়ামসংলগ্ন ফ্যামিলি জোন মিলনায়তনের সামনে থেকে তাকে আটক করা হয়। ঘটনার সময় এলাকায় ব্যাপক পুলিশি উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, একটি পূর্বঘোষিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিতে ফ্যামিলি জোন মিলনায়তনের সামনে পৌঁছান তারেক রেজা। তিনি সেখানে পৌঁছানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই ঝিনাইদহ সদর থানা পুলিশের একটি দল তাকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় ঘটনাস্থলে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, সাদা পোশাকে থাকা বিশেষ দল এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ঝিনাইদহ সদর থানার পুলিশ জানিয়েছে, হামলা, ভাঙচুর এবং হত্যার হুমকির অভিযোগে করা একটি মামলার ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ওই মামলাটি ২৩ মে দায়ের করা হয়, যেখানে তারেক রেজাসহ একাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে এবং অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সূত্রপাত ঘটে ২২ মে, শুক্রবার। সেদিন জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ঝিনাইদহ সফরকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। জুমার নামাজের পর স্থানীয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে এনসিপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, হাতাহাতি এবং সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে জানা যায়।
পরবর্তীতে ওই ঘটনার জেরে দুই পক্ষই পাল্টাপাল্টি মামলা করে। প্রথমে এনসিপি নেতা তারেক রেজা ছাত্রদলের স্থানীয় আট নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে হামলা ও হুমকির অভিযোগে মামলা করেন। এরপর পরদিনই জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি এনামুল কবির পাল্টা মামলা করেন, যেখানে তারেক রেজাসহ ২২ জনকে আসামি করা হয়। এই পাল্টা মামলার ভিত্তিতেই শেষ পর্যন্ত তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ঘটনাগুলোর ধারাবাহিকতা বোঝাতে নিচের সময়রেখা তুলে ধরা হলো—
| তারিখ | ঘটনা |
|---|---|
| ২২ মে | ঝিনাইদহে রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘিরে সংঘর্ষ |
| ২৩ মে | উভয় পক্ষের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা দায়ের |
| ২৪ মে | সন্ধ্যায় তারেক রেজাকে গ্রেপ্তার |
স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি মামলার কারণে ঝিনাইদহে পরিস্থিতি কিছুটা অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। গ্রেপ্তারের পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এদিকে ঘটনাটি ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট দলীয় মহল বলছে, মামলাটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হতে পারে, অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, তদন্তের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
