ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হাতে গ্রেফতার হয়েছেন দুই অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা। তাঁরা হলেন অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল দেবাশীষ কুমার বড়ুয়া এবং অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কাজী গুলশান আরা। সন্ত্রাসবিরোধী ও সাইবার নিরাপত্তা আইনে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়েছে।
রোববার (১১ অক্টোবর) রাতে তাঁদের গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া বিভাগ। তবে গ্রেফতারের পরপরই তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হবে।
ডিবি সূত্রের দাবি, দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির ষড়যন্ত্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে এই দুই সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই ঘটনায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে তাঁদের যোগসাজশ থাকার তথ্য পাওয়া গেছে বলেও দাবি করেছে সূত্রটি।
তবে কথিত ষড়যন্ত্রের ধরন, এর সঙ্গে দুই কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতার প্রকৃতি এবং তাঁদের বিরুদ্ধে কী ধরনের তথ্যপ্রমাণ রয়েছে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। তাঁদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী ও সাইবার নিরাপত্তা আইনের কোন কোন ধারায় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা-ও আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।
ডিএমপির মিডিয়া বিভাগ জানিয়েছে, গ্রেফতারের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পরে প্রকাশ করা হবে। ফলে অভিযোগের সুনির্দিষ্ট ভিত্তি, তদন্তের অগ্রগতি এবং পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ সম্পর্কে পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের অপেক্ষা রয়েছে।
দুই সাবেক সেনা কর্মকর্তার গ্রেফতারের বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হলে তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের প্রকৃতি এবং তদন্তের পরিধি সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। বিশেষ করে, তাঁদের কথিত রাজনৈতিক যোগসাজশের বিষয়ে কী তথ্য পাওয়া গেছে এবং সেসব তথ্যের ভিত্তিতে কী ধরনের আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, তা জানা গুরুত্বপূর্ণ।
তবে ডিবি সূত্রের দাবি এবং পুলিশের আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা তথ্যকে আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। অভিযোগের পক্ষে কী ধরনের প্রমাণ রয়েছে, তা প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।
আইন অনুযায়ী, গ্রেফতার হওয়া মানেই অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যপ্রমাণ, অভিযুক্তদের বক্তব্য এবং আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারিত হবে।









