,

মেহেরপুরে অবৈধ সালিশ, মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি

সালিশের নামে নির্যাতন, অপমান কিংবা আইনি অধিকার থেকে কাউকে বঞ্চিত করার সুযোগ দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মেহেরপুরের নবাগত পুলিশ সুপার আলী হায়দার চৌধুরী। মাদক, অনলাইন জুয়া ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালানোর ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, অপরাধের অভিযোগ উঠলে আইন অনুযায়ী পুলিশ ব্যবস্থা নেবে এবং বিচার করবে আদালত। প্রচলিত বিচারব্যবস্থার বাইরে কোনো অবৈধ সালিশ চলতে দেওয়া হবে না।

রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেলে মেহেরপুরের পুলিশ সুপারের সম্মেলনকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন আলী হায়দার চৌধুরী। দায়িত্ব গ্রহণের পর জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অপরাধ দমন এবং সাধারণ মানুষের জন্য পুলিশের সেবা সহজ করার বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি।

পুলিশ সুপার বলেন, সালিশের নামে কাউকে শারীরিক বা মানসিকভাবে নির্যাতন করা কিংবা আইনি সেবা পাওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের ঘটনা বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী নিজেদের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিয়ে কাউকে শাস্তি দিতে পারে না। অপরাধের অভিযোগ থাকলে তা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানাতে হবে এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই অপরাধের নিষ্পত্তি করতে হবে।

জেলার অপরাধ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাদক, অনলাইন জুয়া ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান তিনি। এসব অপরাধের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালানো হবে এবং কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে আশ্বাস দেন পুলিশ সুপার। তাঁর মতে, অপরাধ দমনে কার্যকর পদক্ষেপের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সহযোগিতা ও সচেতনতাও প্রয়োজন।

সভায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় অনলাইন জুয়া, চুরি, মাদক, চোরাচালান, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস এবং কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন সাংবাদিকেরা। তাঁরা এসব অপরাধের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করার ওপর গুরুত্ব দেন। জবাবে পুলিশ সুপার সমস্যাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।

সাধারণ মানুষ যাতে সহজে পুলিশের সেবা পেতে পারে, সে বিষয়েও নিজের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন আলী হায়দার চৌধুরী। মেহেরপুর জেলার সব থানাকে জনবান্ধব সেবাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, মানুষ যেন নির্ভয়ে থানায় এসে অভিযোগ জানাতে পারে এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় সেবা পায়, সে বিষয়ে জেলা পুলিশের কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

থানায় অভিযোগ জানাতে গিয়ে সাধারণ মানুষ যাতে হয়রানি বা অযথা ভোগান্তির শিকার না হন, সে জন্য পুলিশের দায়িত্বশীল আচরণ ও দ্রুত সেবা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। অপরাধের শিকার ব্যক্তি কিংবা অভিযোগকারীকে আইনি সহায়তার সুযোগ দেওয়া এবং অভিযোগ যথাযথভাবে গ্রহণ করা পুলিশের জনমুখী সেবার অন্যতম শর্ত। এ ক্ষেত্রে থানার কার্যক্রম আরও সহজ ও মানুষের আস্থার উপযোগী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন পুলিশ সুপার।

নিরাপদ মেহেরপুর গড়ে তুলতে সাংবাদিকদের সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি। অপরাধের তথ্য তুলে ধরা, জনসচেতনতা বাড়ানো এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে দায়িত্বশীল প্রতিবেদন তৈরির মাধ্যমে গণমাধ্যম পুলিশের কাজে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। পুলিশ ও গণমাধ্যমের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ থাকলে স্থানীয় সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা এবং সেগুলো নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

মতবিনিময় সভায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আতিকুল হক, জেলা পুলিশের মিডিয়া ফোকাল পারসন ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামিনুর রহমান খান এবং জেলায় কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।