খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৭ই মে ২০২৬, ৮:৩ পিএম

জামালপুর জেলায় চাঞ্চল্যকর পৃথক তিনটি মামলায় রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। এর মধ্যে একটি স্কুলছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর হত্যার দায়ে তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড, একটি অপহরণ মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং একটি ধর্ষণ মামলায় ১০ বছরের আটকাদেশ প্রদান করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৭ মে, ২০২৬) দুপুরে জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম জনাকীর্ণ আদালতে এই রায়গুলো ঘোষণা করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৯ এপ্রিল রাতে জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার শিলদহ গ্রামে এক স্কুলছাত্রী সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়। ধর্ষণের পর অত্যন্ত নৃশংসভাবে তাকে হত্যা করা হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনার প্রেক্ষিতে ওই বছরের ৫ মে ইসলামপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
বিচারিক প্রক্রিয়ায় আদালত মোট ৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণ শেষে আদালত তিন আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। রায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেক আসামিকে ২ লক্ষ টাকা করে অর্থদণ্ড বা জরিমানা করা হয়েছে। তবে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত না হওয়ায় সাদিক নামে এক আসামিকে মামলা থেকে বেকসুর খালাস প্রদান করেন আদালত। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত সকল আসামি আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।
স্কুলছাত্রী ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের বিস্তারিত পরিচয় নিচে প্রদান করা হলো:
| আসামির নাম | পিতার নাম | গ্রাম ও উপজেলা | সাজার ধরন | জরিমানার পরিমাণ |
| মো. শিপন (১৯) | মো. আব্দুস সোবাহান | শিলদহ, ইসলামপুর | মৃত্যুদণ্ড | ২,০০,০০০ টাকা |
| মো. ইব্রাহিম (২৫) | সিদ্দিক মোল্লা | শিলদহ, ইসলামপুর | মৃত্যুদণ্ড | ২,০০,০০০ টাকা |
| মো. ইউসুফ আলী (২০) | আরমান আলী | শিলদহ, ইসলামপুর | মৃত্যুদণ্ড | ২,০০,০০০ টাকা |
একই দিনে আদালত আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার রায় প্রদান করেছেন। জামালপুর সদর উপজেলার বাঁশচড়া এলাকায় এক কিশোরীকে অপহরণের দায়ে মাহবুবুল আলম রাব্বি নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। কারাদণ্ডের পাশাপাশি তাকে ২ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।
এছাড়া, দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার ভিটাকান্দি গ্রামে সংগঠিত অপর একটি ধর্ষণ মামলায় হৃদয় মিয়া নামে এক তরুণকে ১০ বছরের আটকাদেশ দিয়েছেন আদালত। এই মামলার রায় প্রদানের সময়ও আসামি হৃদয় আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ফজলুল হক মামলার রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে সংবাদমাধ্যমকে জানান, অপরাধীদের দ্রুততম সময়ে ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হয়েছে। যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সাক্ষীদের জবানবন্দির ভিত্তিতেই আদালত এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। রায় ঘোষণার পর দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের কড়া পুলিশি পাহারায় জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।
মন্তব্য