দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী কিম তাই-হিয়াং, যিনি বিটিএসের সদস্য ভি নামে বিশ্বজুড়ে পরিচিত, জানিয়েছেন যে তিনি দীর্ঘদিন ধরে ডান কানে শ্রবণশক্তি কমে যাওয়ার সমস্যায় ভুগছেন। বর্তমানে এ সমস্যার জন্য চিকিৎসা নিচ্ছেন তিনি এবং নিয়মিত ওষুধ সেবনের পাশাপাশি চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে চলছেন।
সম্প্রতি এক সরাসরি সম্প্রচার অনুষ্ঠানে নিজের শারীরিক অবস্থার কথা জানান ভি। তিনি বলেন, দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে তার ডান কানে শোনার সমস্যা রয়েছে। বর্তমানে বাম কানের তুলনায় ডান কানে তার শ্রবণক্ষমতা প্রায় ৩০ শতাংশে নেমে এসেছে বলে জানান এই তারকা।
ভির ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুনে বাধ্যতামূলক সামরিক দায়িত্ব পালন শেষ করার সময় তার কানের সমস্যাটি আরও গুরুতর হয়ে ওঠে। দক্ষিণ কোরিয়ায় পুরুষ নাগরিকদের জন্য বাধ্যতামূলক সামরিক দায়িত্ব পালনের নিয়ম রয়েছে। বিটিএসের সদস্যরাও নিজেদের সংগীতজীবনের ব্যস্ততার মধ্যে নির্ধারিত সামরিক দায়িত্ব সম্পন্ন করেছেন।
ভি জানান, শুরুতে তিনি কানের সমস্যাটিকে খুব একটা গুরুত্ব দেননি। বিষয়টি মানসিক দৃঢ়তার মাধ্যমে সামলে নেওয়া সম্ভব হবে বলেই মনে করেছিলেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সমস্যাটি থেকে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন তিনি। এখন নিয়মিত ওষুধ খাওয়ার পাশাপাশি হাসপাতালে যোগাযোগ রাখছেন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিচ্ছেন।
শ্রবণশক্তি কমে যাওয়ার কারণ সম্পর্কে ভি বিস্তারিত কোনো তথ্য জানাননি। ফলে তার সমস্যাটি ঠিক কোন শারীরিক কারণে তৈরি হয়েছে, সে বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে দীর্ঘদিন ধরে সমস্যাটি চলতে থাকায় চিকিৎসার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি।
এদিকে ব্যক্তিগত শারীরিক সমস্যার মধ্যেও সংগীত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন ভি। সামরিক দায়িত্ব শেষ করে বিটিএসের সদস্যরা চলতি বছর আবারও একত্র হয়েছেন। চার বছরেরও বেশি সময় পর দলটি বিশ্ব সফরেও ফিরেছে। দলের সব সদস্যই এরই মধ্যে তাদের বাধ্যতামূলক ১৮ মাসের সামরিক সেবা বা সমমানের দায়িত্ব সম্পন্ন করেছেন।
বিটিএসের চলমান ‘আরিরাং বিশ্ব সফর’-এর কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে। ভি জানিয়েছেন, সফরের ব্যস্ততার পাশাপাশি নিজের শারীরিক সমস্যার চিকিৎসাও চালিয়ে যাচ্ছেন। অর্থাৎ সংগীতের কাজ এবং চিকিৎসা—দুই দিকই সামলে এগোচ্ছেন তিনি।
ভির কানের সমস্যার খবর প্রকাশ্যে আসার পর তার ভক্তদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তবে চিকিৎসকেরা তার শারীরিক অবস্থার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ না করা পর্যন্ত সমস্যার মাত্রা বা ভবিষ্যৎ প্রভাব নিয়ে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। আপাতত চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়াই তার প্রধান লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন এই বিটিএস তারকা।









