ঢাকার সাভারে ১৫ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে গোলাম রব্বানী (৪০) নামে একটি মাদ্রাসার অধ্যক্ষকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। গ্রেপ্তার গোলাম রব্বানী সাভারের তেঁতুলঝোড়া এলাকার একটি মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
পুলিশ ও মামলা-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ওই শিক্ষার্থীর পরিবারের পক্ষ থেকে সাভার মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ প্রাথমিকভাবে বিষয়টি যাচাই করে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করে। পরে অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে গোলাম রব্বানীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগীর অভিযোগ এবং প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে মামলা করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর আইন অনুযায়ী তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (ওসি) সাইফুল আলম বলেন, ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে অধিকতর তদন্ত চলছে।
এদিকে মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে অভিযোগ তদন্তে সত্য প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দায়িত্বশীল ব্যক্তির বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়ন বা নির্যাতনের অভিযোগ উঠলে বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন। বিশেষ করে অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের পাশাপাশি তার নিরাপত্তা, মানসিক সুরক্ষা এবং প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।
তবে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে দোষী হিসেবে চূড়ান্তভাবে বিবেচনা করা যায় না। তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই ঘটনার প্রকৃত সত্য নির্ধারিত হবে। পুলিশ জানিয়েছে, এ বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।









