গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় এক নারী যাত্রীর মৃত্যু এবং শিশুসহ অন্তত ১৫ জন আহত হওয়ার ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রোববার সকালে গাইবান্ধা-পলাশবাড়ী আঞ্চলিক সড়কের মহদীপুর ইউনিয়নের ঠুটিয়াপাকুর এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের খাদে উল্টে পড়ে গেলে এই দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সদস্যদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দ্রুত উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হয়।
নিহত নারী রিক্তা বেগম ছিলেন গাইবান্ধা সদর উপজেলার সাহার বাজার এলাকার বাসিন্দা। তিনি আইজল হকের স্ত্রী। দুর্ঘটনার সময় বাসের ভেতরে অন্যান্য যাত্রীদের সঙ্গে অবস্থান করছিলেন। বাসটি খাদে পড়ে গেলে তিনি বাসের নিচে চাপা পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে উদ্ধারকারীরা তার মরদেহ উদ্ধার করেন।
পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এবং প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা নিউ সাফা পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস গাইবান্ধার উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল। সকাল প্রায় ৭টার দিকে বাসটি ঠুটিয়াপাকুর এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়ক থেকে ছিটকে পাশের খাদে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার বিকট শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং উদ্ধারকাজে অংশ নেন। পরে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সদস্যরাও সেখানে পৌঁছে সমন্বিতভাবে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন।
আহতদের মধ্যে নারী, পুরুষ ও শিশু রয়েছে। তাদের দ্রুত উদ্ধার করে পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতাল এবং স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের মতে, অধিকাংশ আহত যাত্রীর শরীরে আঘাত, কাটা-ছেঁড়া ও হালকা থেকে মাঝারি ধরনের শারীরিক ক্ষত রয়েছে। কয়েকজনকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে, যাতে তাদের অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া যায়।
দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে ফেরা কয়েকজন যাত্রী জানান, বাসটি হঠাৎ অস্বাভাবিকভাবে দুলতে শুরু করে। কিছুক্ষণ পর চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে বাসটি সড়ক ছেড়ে খাদে পড়ে যায়। তারা আরও বলেন, খাদে পানির পরিমাণ কম থাকায় অনেক যাত্রী দ্রুত বের হয়ে আসতে পেরেছেন। পানির গভীরতা বেশি হলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারত বলে তারা মনে করেন।
দুর্ঘটনার সংক্ষিপ্ত তথ্য
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| দুর্ঘটনার স্থান | ঠুটিয়াপাকুর, মহদীপুর ইউনিয়ন, পলাশবাড়ী |
| জেলা | গাইবান্ধা |
| সময় | সকাল প্রায় ৭টা |
| যানবাহন | নিউ সাফা পরিবহনের যাত্রীবাহী বাস |
| নিহত | ১ জন (রিক্তা বেগম) |
| আহত | অন্তত ১৫ জন |
| যাত্রাপথ | ঢাকা থেকে গাইবান্ধাগামী |
| উদ্ধারকারী সংস্থা | ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও স্থানীয় জনগণ |
পলাশবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের সাব-স্টেশন কর্মকর্তা লোকমান হাকিম জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। বাসের ভেতরে আটকে থাকা যাত্রীদের বের করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়। পাশাপাশি দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি খাদ থেকে উদ্ধারের কাজও পরিচালনা করা হয়।
অন্যদিকে, পলাশবাড়ী থানার তদন্ত কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার জানান, প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর নিহত রিক্তা বেগমের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। প্রাথমিকভাবে অতিরিক্ত গতি, যান্ত্রিক ত্রুটি অথবা চালকের অসাবধানতাকে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হলেও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।
সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের বিভিন্ন মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কে সাম্প্রতিক সময়ে দুর্ঘটনার সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। নিয়মিত যানবাহনের ফিটনেস পরীক্ষা, চালকদের পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিশ্চিত করা, সড়কে গতি নিয়ন্ত্রণ এবং ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা গেলে এমন দুর্ঘটনার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। স্থানীয় বাসিন্দারাও দুর্ঘটনাপ্রবণ এই সড়কে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদারের দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
