জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ই জুলাই ২০২৬, ৪:৭ পিএম
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে বড় সংগ্রহ গড়ার ক্ষেত্রে ভারতের আধিপত্য যেন দিন দিন আরও দৃঢ় হচ্ছে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ২১৯ রান তুলে নতুন এক বিশ্বরেকর্ড গড়েছে ভারত। হারারেতে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ২১৯ রান সংগ্রহ করে সফরকারীরা। আর এই ইনিংসের মধ্য দিয়েই আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টির ইতিহাসে এক ক্যালেন্ডার বছরে সবচেয়ে বেশি বার ২০০ বা তার বেশি রান করার নতুন নজির স্থাপন করেছে তারা।
২০২৬ সালে এটি ভারতের নবমবারের মতো দুই শতাধিক রান করার কীর্তি। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এক বছরে কোনো দল এর আগে এতবার ২০০ রানের সীমা অতিক্রম করতে পারেনি। অর্থাৎ, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২১৯ রানের ইনিংস শুধু ম্যাচের স্কোরবোর্ডেই ভারতের শক্তিমত্তার পরিচয় দেয়নি, বরং টি-টোয়েন্টির পরিসংখ্যানের পাতাতেও নতুন একটি অধ্যায় যোগ করেছে।
কাকতালীয়ভাবে, আগের রেকর্ডটিও ছিল ভারতের দখলে। ২০২৪ সালে ২৬টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলে ভারত নয়বার ২০০ বা তার বেশি রান করেছিল। এবার ২০২৬ সালে মাত্র ২৩ ম্যাচেই সেই সংখ্যায় পৌঁছে গেছে দলটি। ফলে একদিকে যেমন নিজেদের পুরোনো রেকর্ড ভেঙেছে ভারত, অন্যদিকে তেমনই টি-টোয়েন্টিতে তাদের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের ধারাবাহিকতাও আরও স্পষ্ট হয়েছে।
ভারতের এই সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে তাদের আক্রমণাত্মক ব্যাটিং পদ্ধতি। টি-টোয়েন্টির আধুনিক ক্রিকেটে পাওয়ারপ্লের সুবিধা কাজে লাগানো, মাঝের ওভারগুলোতে দ্রুত রান তোলা এবং শেষ দিকে বিস্ফোরক ব্যাটিং—এই তিন ধাপেই ভারতীয় ব্যাটিংয়ের কার্যকারিতা দেখা যাচ্ছে। ফলে ১৮০ থেকে ২০০ রানের কাছাকাছি সংগ্রহ এখন আর তাদের জন্য বিরল কোনো ঘটনা নয়; বরং পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে আরও বড় স্কোরের প্রত্যাশাই তৈরি হয়।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২১৯ রানের ইনিংস সেই ধারাবাহিকতারই আরেকটি উদাহরণ। ২০ ওভারের ক্রিকেটে ২০০ পেরোনো মানেই প্রতিপক্ষের ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করা। এমন স্কোর তাড়া করতে গিয়ে শুরু থেকেই প্রয়োজন হয় দ্রুত রান তোলার পাশাপাশি উইকেট ধরে রাখার অসাধারণ ভারসাম্য। ফলে ভারতের এই ধরনের সংগ্রহ শুধু ব্যাটিং সামর্থ্যের পরিচয় নয়, ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়ার কৌশলও বটে।
ভারতের টি-টোয়েন্টি দলের নেতৃত্বেও সাম্প্রতিক সময়ে পরিবর্তন এসেছে। ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে রোহিত শর্মার নেতৃত্বে এবং সূর্যকুমার যাদবের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় খেলা ভারতীয় দল বর্তমানে শ্রেয়াস আইয়ারের নেতৃত্বে নতুন পর্যায়ে এগোচ্ছে। নেতৃত্বের পরিবর্তন হলেও দলের ব্যাটিং দর্শনে বড় কোনো পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না। বরং দ্রুত রান তোলা এবং প্রতিপক্ষের ওপর শুরু থেকেই চাপ তৈরি করার প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে।
এই রেকর্ডের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সময়ের হিসাব। ২০২৬ সাল এখনো শেষ হয়নি। সামনে ভারতের আরও কয়েকটি দ্বিপক্ষীয় সিরিজ ও গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা রয়েছে। ফলে এক বছরে ২০০ বা তার বেশি রান করার সংখ্যা আরও বাড়ার সুযোগ রয়েছে। বর্তমান গতি ধরে রাখতে পারলে নিজেদের গড়া রেকর্ডই আবার নতুন করে ছাড়িয়ে যেতে পারে ভারত।
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ২০০ রান এখন আগের মতো অসম্ভব কোনো স্কোর নয়। ব্যাটিংয়ের নিয়ম, পাওয়ারপ্লে, ব্যাটসম্যানদের প্রস্তুতি এবং আক্রমণাত্মক কৌশলের কারণে দলগুলো নিয়মিত বড় সংগ্রহের দিকে এগোচ্ছে। তবে একটি ক্যালেন্ডার বছরে নয়বার ২০০ বা তার বেশি রান করা নিঃসন্দেহে ব্যতিক্রমী ধারাবাহিকতার প্রমাণ। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২১৯ রানের ইনিংস তাই ভারতের জন্য কেবল একটি ম্যাচজয়ী স্কোর নয়; এটি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে তাদের ক্রমবর্ধমান ব্যাটিং শক্তিরও প্রতিচ্ছবি।
মন্তব্য