চট্টগ্রাম নগরে মাদক সেবনের টাকা জোগাড় করতে ২০ মাস বয়সী নিজের শিশুকন্যাকে বিক্রির উদ্দেশ্যে বাসা থেকে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক বাবার বিরুদ্ধে। শিশুটির মা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে বিষয়টি জানালে সদরঘাট থানা-পুলিশ অভিযান চালিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টার মধ্যে শিশুটিকে উদ্ধার করে। পরে তাকে মায়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ঘটনাটি ঘটে গত শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে নগরের সদরঘাট থানার পশ্চিম মাদারবাড়ি এলাকায়। উদ্ধার হওয়া শিশুটির নাম ফাতেমা আক্তার। তার মা সীমা আক্তারের অভিযোগ, তাঁর স্বামী লোকমান হোসেন সাগর মাদকাসক্ত। মাদক সেবনের জন্য অর্থের প্রয়োজন হওয়ায় তিনি মেয়েকে বিক্রি করে দেওয়ার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে জোর করে নিয়ে বের হন।
সদরঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ একরাম উল্লাহ জানান, ২৬ বছর বয়সী সীমা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে অভিযোগ করেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত শিশুটিকে উদ্ধারে অভিযান শুরু করে।
পুলিশ জানায়, সীমা ও লোকমান নগরের পানির ট্যাংকি এলাকার বাচ্চু মিয়ার বাসায় বসবাস করেন। শনিবার রাতে লোকমান তাঁদের ২০ মাস বয়সী মেয়েকে নিয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে যান। স্ত্রীকে তিনি শিশুটিকে বিক্রি করার কথা জানিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন সীমা।
অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ শিশুটির অবস্থান শনাক্ত করতে বিভিন্ন স্থানে খোঁজ শুরু করে। প্রায় দুই ঘণ্টা পর পশ্চিম মাদারবাড়ির যুগী চাঁদ মসজিদ লেন এলাকা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
ওসি মোহাম্মদ একরাম উল্লাহ বলেন, অভিযুক্ত সাগর তাঁর এক খালাতো ভাইয়ের কাছে গিয়ে নিজের সন্তানকে বিক্রি করে দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। বিষয়টি জানতে পেরে ওই স্বজন কৌশলে শিশুটিকে সাগরের কাছ থেকে নিয়ে নিজের হেফাজতে রাখেন। পরে পুলিশ সেখানে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে।
পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, শিশুটিকে শেষ পর্যন্ত অন্য কারও কাছে বিক্রি বা হস্তান্তর করা হয়নি। সাগরের ওই আত্মীয় শিশুটিকে নিজের কাছে রাখায় পুলিশ পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত তার অবস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছিল। এরপর পুলিশ তাকে উদ্ধার করে মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেয়।
ঘটনার পর শিশুটির নিরাপত্তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মাত্র ২০ মাস বয়সী একটি শিশুকে অভিভাবকের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোথাও নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ যেমন গুরুতর, তেমনি তাকে বিক্রির উদ্দেশ্যের অভিযোগ বিষয়টিকে আরও স্পর্শকাতর করে তুলেছে। তবে অভিযোগের প্রকৃত কারণ ও ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো ব্যক্তি ছিলেন কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় মামলা হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। ওসি বলেন, সীমা তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করলেও সন্তান উদ্ধারের পর তিনি কোনো মামলা করেননি। ফলে পুলিশের পক্ষ থেকে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি অভিযোগের ধরন ও পরিবারের সিদ্ধান্তের সঙ্গে সম্পর্কিত।
শিশু সুরক্ষার ক্ষেত্রে এমন ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অল্প বয়সী শিশুরা নিজের নিরাপত্তা বা পরিস্থিতি সম্পর্কে সিদ্ধান্ত জানানোর অবস্থায় থাকে না। পরিবারের ভেতরে মাদকাসক্তি, আর্থিক সংকট কিংবা দাম্পত্য বিরোধের মতো পরিস্থিতি তৈরি হলে তাদের নিরাপত্তা আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
এই ঘটনায় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ দ্রুত ফোন করা এবং পুলিশের তাৎক্ষণিক অভিযান শিশুটিকে উদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। অভিযোগ পাওয়ার পর মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শিশুটিকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। তবে শিশুটির ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা, অভিযুক্ত বাবার বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না এবং পরিবারের পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দেওয়া হবে—এসব বিষয় এখন পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করছে।
পুলিশ জানিয়েছে, শিশুটিকে উদ্ধারের পর মায়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। অন্যদিকে, বিক্রির উদ্দেশ্যে শিশুকে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগের বিষয়ে কোনো মামলা না হওয়ায় ঘটনার আইনগত পরিণতি এখনো স্পষ্ট নয়।








