গাজীপুরের টঙ্গীতে কর্মস্থল থেকে বাসায় ফেরার পথে বাসের চাপায় প্রাণ হারিয়েছেন এক নারী পোশাকশ্রমিক। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনার পর ক্ষুব্ধ সহকর্মীরা মহাসড়ক অবরোধ করে প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে বিক্ষোভ দেখান। এতে ব্যস্ততম মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হলে ভোগান্তিতে পড়েন শত শত যাত্রী।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুরা এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত পোশাকশ্রমিকের নাম রহিমা বেগম (২৫)। তিনি গাজীপুরা এলাকার একটি তৈরি পোশাক কারখানায় কর্মরত ছিলেন। কারখানাটিতে নিয়মিত ডিউটি শেষ করে ওভারটাইমের কাজ সেরে রাতে তিনি বাসায় ফিরছিলেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ১০টার দিকে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে গাজীপুরা এলাকায় রাস্তা পার হচ্ছিলেন রহিমা। এ সময় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে বেপরোয়া গতিতে আসা ‘ইউনাইটেড পরিবহন’-এর একটি বাস তাঁকে সজোড়ে চাপা দেয়। গুরুতর আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান ওই তরুণী। দুর্ঘটনার পর পর চালক বাস নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও আশপাশের লোকজন ও শ্রমিকেরা জড়ো হতে শুরু করেন।
রহিমা বেগমের মৃত্যুর খবর নিমেষেই ছড়িয়ে পড়লে গাজীপুরা এলাকার বিভিন্ন কারখানার শ্রমিক এবং নিহতের সহকর্মীরা রাজপথে নেমে আসেন। সহকর্মীর অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর প্রতিবাদে এবং ঘাতক বাসের চালককে গ্রেফতারের দাবিতে তাঁরা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। অবরোধের কারণে মহাসড়কের উভয় পাশে যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। চোখের পলকে গাজীপুরা থেকে টঙ্গী এবং অপরদিকে চন্দনা চৌরাস্তা অভিমুখে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। রাত দশটার পর দূরপাল্লার বাস ও পণ্যবাহী ট্রাক আটকে পড়ায় স্থবির হয়ে পড়ে গোটা সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা।
খবর পেয়ে টঙ্গী পূর্ব থানা-পুলিশের টিম দ্রুত দুর্ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। তারা উত্তেজিত পোশাকশ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং চালকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। পুলিশের সমঝতা ও হস্তক্ষেপে প্রায় আধা ঘণ্টা পর বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা সড়ক ছেড়ে দিলে যানবাহন চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক হতে শুরু করে।
টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাকসুদুল আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নিহতের ময়নাতদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য লাশ উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ঘাতক বাসটিকে শনাক্ত করার কাজ চলছে। বর্তমানে মহাসড়কে পরিস্থিতি একদম শান্ত রয়েছে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক আছে।









