কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে এক মাদ্রাসাছাত্রকে যৌন নির্যাতনের চেষ্টার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এক মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে। খবরটি জানাজানি হলে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্ত শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরবর্তীতে উদ্ধার অভিযানে গেলে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক ধস্তাধস্তি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বিক্ষুব্ধ জনতাকে সামলাতে গিয়ে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালিদুর রহমানসহ অন্তত তিনজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার খলিশাকুন্ডি এলাকার ‘মারাকাজুল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ মাদ্রাসা’ প্রাঙ্গণে এ উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
পুলিশ ও স্থানীয়দের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, বুধবার রাতে মাদ্রাসার এক আবাসিক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের চেষ্টা চালান অধ্যক্ষ আশিকুল্লাহ। ভুক্তভোগী শিশুটি পরদিন ঘটনাটি তার পরিবারকে জানালে তা দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। চার বছর আগে মারা যাওয়া স্ত্রীর স্বপ্নপূরণ ও ছেলেকে হাফেজ বানানোর আশায় বাবা শিশুটিকে এই মাদ্রাসায় ভর্তি করিয়েছিলেন। ওই অভিভাবকের অভিযোগ, অধ্যক্ষ এর আগেও একাধিকবার তার সন্তানের সঙ্গে অসদাচরণ করেছেন। এবার সহ্য করতে না পেরে ছেলে পুরো বিষয়টি খুলে বলে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার ও সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন।
ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ফুঁসে ওঠেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শত শত মানুষ মাদ্রাসায় জমায়েত হয়ে অভিযুক্ত অধ্যক্ষকে একটি কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখেন। খবর পেয়ে দৌলতপুর থানার ওসি খালিদুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও আইনি প্রক্রিয়ার স্বার্থে পুলিশ যখন অভিযুক্ত শিক্ষককে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার চেষ্টা করছিল, তখন উত্তেজিত জনতা তাকে ছিনিয়ে নিয়ে গণধোলাই দেওয়ার চেষ্টা চালায়।
পুলিশ এতে বাধা দিলে শুরু হয় তুমুল ধস্তাধস্তি ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ। এতে ওসি খালিদুর রহমান, একজন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) এবং একজন কনস্টেবল আঘাত পান। আহতদের মধ্যে এএসআই-এর আঘাত কিছুটা গুরুতর বলে জানা গেছে। তবে ওসি প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে পুনরায় দায়িত্বে যোগ দিয়েছেন।
আটক অধ্যক্ষ আশিকুল্লাহর বাড়ি যশোর জেলায় এবং তিনি পার্শ্ববর্তী মিরপুর উপজেলার ছাতিয়ান ইউনিয়নের আটি গ্রামে বিবাহসূত্রে বসবাস করতেন। ঘটনার পর থেকে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে খলিশাকুন্ডি এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালিদুর রহমান জানান, অভিযুক্ত অধ্যক্ষকে উদ্ধার করে থানা হেফাজতে আনা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক মামলার প্রস্তুতি চলছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।









