দিনাজপুরের বীরগঞ্জে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় বিমল দেবনাথ (২৫) নামে এক পোশাকশ্রমিক যুবকের অকালমৃত্যু হয়েছে। একটি বেপরোয়া ট্রলির সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রীসহ আরও দুজন মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার ১০ নম্বর মোহনপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাহেবগঞ্জ বাজার এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহত বিমল দেবনাথ বীরগঞ্জ উপজেলার শতগ্রাম ইউনিয়নের ঝাড়বাড়ী এলাকার রাঙ্গালীপাড়া গ্রামের রমেশ দেবনাথের ছেলে। এ ঘটনায় আহত দুজন হলেন বিমলের স্ত্রী দীপ্তি দেবনাথ এবং একই ইউনিয়নের মুচিবাড়ি সরকারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা রাকিবুল ইসলামের স্ত্রী রোজিনা আক্তার।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিমল দেবনাথ, তাঁর স্ত্রী দীপ্তি দেবনাথ এবং তাঁদের প্রতিবেশী রোজিনা আক্তার—তিনজনেই নীলফামারীর উত্তরা ইপিজেডের একটি তৈরি পোশাক কারখানায় কর্মরত ছিলেন। কারখানা থেকে ছুটি শেষে বৃহস্পতিবার রাতে তারা নীলফামারী থেকে একটি মোটরসাইকেলে চেপে ঝাড়বাড়ী এলাকায় নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে সাহেবগঞ্জ বাজার এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক (ঝাড়বাড়ী এলাকা) থেকে আসা বীরগঞ্জগামী একটি দ্রুতগতির ইট বা মাটি বহনকারী ট্রলির সঙ্গে তাঁদের মোটরসাইকেলটির প্রচণ্ড মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
সংঘর্ষের তীব্রতায় মোটরসাইকেলটি চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায় এবং চালকের আসনে থাকা বিমল দেবনাথ ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। এ সময় মোটরসাইকেলে থাকা তাঁর স্ত্রী দীপ্তি দেবনাথ ও সহকর্মী রোজিনা আক্তার ছিটকে পড়ে মারাত্মক আহত হন। বিকট শব্দ শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং রক্তাত অবস্থায় আহত দুজনকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করান।
দুর্ঘটনার তথ্য নিশ্চিত করে বীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। নিহতের লাশ উদ্ধার করে থানায় রাখা হয়েছে। আইনি আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর পরিবারের কাছে মৃতদেহ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হবে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।









