গাজীপুরের টঙ্গীতে আট কেজি গাঁজাসহ নার্গিস আক্তার (৩৬) নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (২৬ জুলাই) ভোররাতে টঙ্গী পূর্ব থানার আমতলী কেরানীরটেক এলাকার একটি মাদকপ্রবণ বস্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ বলছে, নার্গিস আক্তার ওই এলাকায় মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
গ্রেপ্তার নার্গিস আক্তার টঙ্গীর আমতলী কেরানীরটেক মাদক বস্তির বাসিন্দা। তিনি আলাল উদ্দিনের মেয়ে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার ভোররাতে আমতলী কেরানীরটেক এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় সন্দেহভাজন হিসেবে নার্গিস আক্তারকে আটক করা হয়। পরে তার দখলে থাকা মাদকদ্রব্য তল্লাশি করে মোট আট কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা গাঁজা জব্দ করার পাশাপাশি তাকে গ্রেপ্তার করে থানায় নেওয়া হয়।
টঙ্গী পূর্ব থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তুহিন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে নার্গিস আক্তারকে আট কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। মামলার প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার করা গাঁজা আইন অনুযায়ী জব্দ করা হয়েছে। গ্রেপ্তার নার্গিস আক্তার কীভাবে এই মাদক সংগ্রহ করেছিলেন, কোথা থেকে তা আনা হয়েছিল এবং এর পেছনে কোনো সরবরাহকারী বা সহযোগী রয়েছে কি না—এসব বিষয় এখন তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তের মাধ্যমে মাদকের উৎস এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
তবে প্রাথমিকভাবে পুলিশ নার্গিস আক্তারকে মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করলেও, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
টঙ্গী গাজীপুরের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও বাণিজ্যিক এলাকা। ঘনবসতি, বিপুলসংখ্যক শ্রমজীবী মানুষের বসবাস এবং বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মানুষের নিয়মিত যাতায়াতের কারণে এলাকাটিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের নিয়মিত তৎপরতা রয়েছে। এর অংশ হিসেবে মাদকদ্রব্যের সরবরাহ, বিক্রি ও বিস্তার ঠেকাতে বিভিন্ন সময় অভিযান পরিচালনা করা হয়।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা বলে আসছেন, মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি মাদকের উৎস ও সরবরাহব্যবস্থা ভেঙে দিতে অভিযান চালানো হচ্ছে। বিশেষ করে মাদকপ্রবণ হিসেবে চিহ্নিত এলাকাগুলোতে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সাম্প্রতিক এই অভিযানে আট কেজি গাঁজা উদ্ধারের ঘটনায়ও তদন্তকে গুরুত্ব দিচ্ছে পুলিশ। নার্গিস আক্তারের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া মাদক কোথা থেকে এসেছে এবং এর সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা তদন্তের পর স্পষ্ট হতে পারে। পুলিশ জানিয়েছে, মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।









