
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ১৫ দিনব্যাপী সংঘাতে ২০০ জনেরও বেশি মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে ইরানের পাল্টা হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি সামরিক ঘাঁটি ও বিপুলসংখ্যক সামরিক বিমান ও ড্রোন ধ্বংস হয়েছে বলেও দাবি করেছে সংগঠনটি। তবে এসব দাবির কোনোটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও আইআরজিসির দেওয়া হতাহতের সংখ্যা কিংবা সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংসের হিসাব নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেবি এসব দাবি করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ‘অপারেশন ভিক্টরি–২’-এর সময় ইরানের পাল্টা হামলায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর ক্ষয়ক্ষতি এবং হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা পেন্টাগনের প্রকাশিত হিসাবের তুলনায় অনেক বেশি। তিনি অভিযোগ করেন, সংঘাতে নিজেদের ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র প্রকাশ না করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর তা আড়াল করছে।
মোহেবি আরও দাবি করেন, ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে সাংবাদিকদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলে সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠবে। তাঁর ভাষায়, সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের ঘটনাস্থলে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলো সরেজমিনে দেখার সুযোগ দেওয়া হলে ইরানের দাবিগুলো যাচাই করার একটি বাস্তব ভিত্তি তৈরি হতে পারে।
আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, ‘অপারেশন ভিক্টরি–২’-এর অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের আটটি সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়। এসব হামলায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বিমান ও ড্রোন ধ্বংস হয়েছে বলেও দাবি করেছে ইরান। সংগঠনটির দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, ধ্বংস হওয়া সামরিক সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে ১১টি যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার, ১৭টি গোয়েন্দা ও অপারেশনাল ড্রোন, একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান, একটি পি-৮ সামুদ্রিক টহল বিমান, একটি সি-১৭ পরিবহন বিমান এবং আটটি আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান।
তবে আইআরজিসির এসব দাবির সত্যতা নিয়ে যথেষ্ট অনিশ্চয়তা রয়েছে। সামরিক সংঘাতের সময় যুদ্ধরত পক্ষগুলো প্রায়ই নিজেদের ক্ষয়ক্ষতি কম এবং প্রতিপক্ষের ক্ষয়ক্ষতি বেশি করে তুলে ধরতে পারে। ফলে কোনো পক্ষের দেওয়া সামরিক হতাহত বা সরঞ্জাম ধ্বংসের পরিসংখ্যান স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সূত্রে যাচাই না হওয়া পর্যন্ত তা নিশ্চিত তথ্য হিসেবে বিবেচনা করা কঠিন।
এদিকে, মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের প্রকাশিত হতাহতের তথ্য নিয়েও প্রশ্ন ও অসঙ্গতির বিষয় সামনে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পেন্টাগন প্রথমে সংঘাতে ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার তথ্য জানিয়েছিল। পরে সেই সংখ্যা সংশোধন করে ১৪ জন করা হয়। তবে এই সংখ্যাগত পরিবর্তনের পেছনে কী কারণ ছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
এই পরিস্থিতিতে দুই পক্ষের দেওয়া হিসাবের মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী মার্কিন নিহত সেনার সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়েছে। অন্যদিকে, পেন্টাগনের সংশোধিত হিসাব ১৪ জন। অর্থাৎ দুই পক্ষের দাবির ব্যবধান অত্যন্ত বড়, যা সংঘাতের প্রকৃত মানবিক ও সামরিক ক্ষয়ক্ষতি নির্ধারণকে আরও জটিল করে তুলেছে।
ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের হামলার প্রধান লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা। কিন্তু হামলায় ঠিক কতটি ঘাঁটি বা স্থাপনা কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেখানে কতজন সামরিক সদস্য হতাহত হয়েছেন এবং কতসংখ্যক বিমান, ড্রোন বা অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংস হয়েছে—এসব তথ্যের পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন যাচাই এখনো সম্ভব হয়নি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইআরজিসির দেওয়া হতাহত ও সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংসের দাবিগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি রয়টার্স। একইভাবে, ২০০ জনের বেশি মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার দাবি নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে সংঘাতে প্রকৃত মার্কিন সামরিক হতাহতের সংখ্যা এবং সামরিক অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে আপাতত পরস্পরবিরোধী তথ্যই সামনে রয়েছে।
যুদ্ধ বা সামরিক সংঘাতের সময় নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে বেশ কিছু বড় বাধা থাকে। যুদ্ধক্ষেত্রে সাংবাদিকদের প্রবেশ সীমিত থাকা, সামরিক স্থাপনায় নিরাপত্তাজনিত বিধিনিষেধ, গোপনীয়তা রক্ষা এবং তথ্য নিয়ন্ত্রণ—সব মিলিয়ে প্রকৃত পরিস্থিতি দ্রুত যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়ে। এর সঙ্গে যুক্ত হয় তথ্যযুদ্ধ, যেখানে প্রতিটি পক্ষ নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান ও বর্ণনা সামনে আনে।
তাই আইআরজিসির দাবি যেমন স্বাধীনভাবে যাচাই ছাড়া চূড়ান্ত সত্য হিসেবে গ্রহণ করা কঠিন, তেমনি সরকারি কোনো পরিসংখ্যানের ক্ষেত্রেও স্বাধীন প্রমাণ ও নিরপেক্ষ যাচাই গুরুত্বপূর্ণ। যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক স্থাপনা পরিদর্শন, উপগ্রহচিত্র বিশ্লেষণ, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য এবং বিভিন্ন স্বাধীন সূত্রের তথ্য মিলিয়ে দেখার মাধ্যমে ভবিষ্যতে সংঘাতের প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির আরও নির্ভরযোগ্য চিত্র পাওয়া যেতে পারে। আপাতত ২০০-এর বেশি মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার আইআরজিসির দাবি এবং পেন্টাগনের প্রকাশিত সংখ্যার মধ্যে যে বিশাল ব্যবধান রয়েছে, সেটিই সংঘাতের মানবিক ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তার কারণ হয়ে আছে।
> ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় ও বহুমাত্রিক অভিনেতা সঞ্জয় দত্তের জন্মদিন আজ
> স্বাধীনতা সংগ্রামী অরুনা আসফ আলী, ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের অগ্নিকন্যা
> বেইলি রোডে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: দুই আসামির আত্মসমর্পণ ও জামিন মঞ্জুর
> প্রাইভেট ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেটে বিমাকারীদের বিশাল বিনিয়োগ
> পটুয়াখালীতে বিয়ের প্রলোভনে বিধবাকে ধর্ষণ ও গর্ভপাতের অভিযোগ, যুব জামায়াত নেতা আত্মগোপনে
> অনুমতি ছাড়া সামরিক ভিডিওতে গান: ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর ক্ষুব্ধ কেটি পেরি
> রূপগঞ্জে খামারে অভিযান: মোটরসাইকেলে বাঁধা বস্তায় ৪ কেজি গাঁজাসহ কারবারি গ্রেফতার
> ব্র্যান্ড ভ্যালুতে আইপিএলের বাজিমাত: মুম্বাই-কেকেআরকে পেছনে ফেলে শীর্ষে ব্যাঙ্গালুরু
> ইনু মামলার রায় ঘিরে বিচারব্যবস্থার পরীক্ষা
> প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফর দেশের ভাবমুর্তি ক্ষতিগ্রস্থ করেছে
> সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিস শাখা, ঠিকানা ও ফোন নম্বর
> করিয়ারদিয়ায় মাছের ঘের দখলচেষ্টা, অস্ত্রসহ দুইজন জনতার হাতে আটক
> চাটখিলে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় যুবকের মৃত্যুদণ্ড
> আওয়ামী লীগের ৭৭ বছরের রাজনৈতিক গৌরবগাথা ও সংগ্রাম
> বানরের আতঙ্কে ভীত লালবাজারবাসী ডিসি বরাবর আবেদন
> ডিএনডি লেকে দুই কিশোরের মৃত্যু
> ফুলগাজীতে টিন কেটে ঘরে ঢুকে প্রবাসীর স্ত্রীকে হাত-পা বেঁধে হত্যা
© কপিরাইট ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
মন্তব্য