জিলাইভ [ GLive ] | truth alone triumphs

জ্বালানি মজুত করে বেশি দামে বিক্রি, দুইজন দণ্ডপ্রাপ্ত

জামালপুরে অবৈধভাবে জ্বালানি তেল সংগ্রহ ও মজুত করে অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগে এক শ্বশুর ও তাঁর জামাতাকে এক মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। সোমবার গভীর রাতে পরিচালিত এক অভিযানে তাঁদের আটক করা হয় এবং ঘটনাস্থলেই তাৎক্ষণিক বিচার শেষে এই দণ্ড ঘোষণা করা হয়। প্রশাসনের এই পদক্ষেপে স্থানীয়ভাবে স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে জানা গেছে।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন মোহাম্মদ হাবিব (৪৫) ও তাঁর জামাতা নাজমুল হাসান (৩৩)। হাবিব জামালপুর শহরের গেটপাড় এলাকায় একটি মোটরযান মেরামতের কারখানার মালিক। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা সংগঠিতভাবে জ্বালানি তেলের অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। অভিযানের পর তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এই শ্বশুর-জামাতা শহরের বিভিন্ন জ্বালানি সরবরাহ কেন্দ্র থেকে মোটরসাইকেলের মাধ্যমে তেল সংগ্রহ করতেন। পরে তা ড্রাম ও প্লাস্টিকের পাত্রে সংরক্ষণ করে গোপনে মজুত রাখতেন। এরপর সেই তেল সরকার নির্ধারিত মূল্যের তুলনায় বেশি দামে খোলাবাজারে বিক্রি করা হতো। এতে একদিকে সাধারণ ক্রেতারা প্রতারিত হচ্ছিলেন, অন্যদিকে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির ঝুঁকি বাড়ছিল।

অভিযানের সময় হাবিবকে তাঁর কারখানার সামনে মোটরসাইকেলের ট্যাংক থেকে তেল নামিয়ে বোতলে ভরতে দেখা যায়। এ সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইমন হোসেনের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালতের দল সেখানে উপস্থিত হয়ে তাঁদের আটক করে। ঘটনাস্থলে থাকা বিভিন্ন পাত্রে সংরক্ষিত জ্বালানি তেলও জব্দ করা হয় বলে জানা গেছে।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইমন হোসেন বলেন, অনুমতি ছাড়া জ্বালানি তেল সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিক্রি করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। পেট্রোলিয়াম আইন, ২০১৬ অনুযায়ী এ ধরনের কর্মকাণ্ড দেশের জ্বালানি ব্যবস্থার জন্য হুমকিস্বরূপ। তাই অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালত তাঁদের এক মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছেন। তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

নিম্নে ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ উপস্থাপন করা হলো—

বিষয়বিবরণ
স্থানজামালপুর শহর, গেটপাড়
সময়সোমবার রাত
অভিযুক্তমোহাম্মদ হাবিব (৪৫), নাজমুল হাসান (৩৩)
অপরাধঅবৈধ জ্বালানি সংগ্রহ, মজুত ও বেশি দামে বিক্রি
আইনপেট্রোলিয়াম আইন, ২০১৬
দণ্ডএক মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড

বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি খাতে এ ধরনের অনিয়ম শুধু ভোক্তাদের আর্থিক ক্ষতিই করে না, বরং জাতীয় পর্যায়ে সরবরাহ ব্যবস্থায় অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। তাই প্রশাসনের নিয়মিত তদারকি, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং কঠোর আইন প্রয়োগের মাধ্যমে এই অবৈধ বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত জরুরি।

Tags :

Jim

Recent News