চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি থাকা অবস্থায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা নুরুল ইসলাম মারা গেছেন। বুধবার দুপুরে হঠাৎ বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করলে তাকে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে জরুরি বিভাগে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, হাসপাতালে নেওয়ার পথেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে।
মৃত নুরুল ইসলাম চট্টগ্রামের মিরসরাই পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছিলেন। দেশজুড়ে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা একটি মামলায় গত ৩১ জুলাই তাকে আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়। আইনি লড়াই এবং মামলার শুনানির অপেক্ষায় থাকা এই নেতার হঠাৎ এমন আকস্মিক প্রয়াণে তার পরিবার, স্বজন এবং স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
কারাগার ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুর দুইটার দিকে নুরুল ইসলাম হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং বুকে তীব্র অস্বস্তি অনুভব করেন। কারারক্ষীরা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে কারা অভ্যন্তরে অবস্থিত চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়ার সময় কারা কর্মকর্তারা ও কারারক্ষীরা উপস্থিত ছিলেন। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে জানান যে তিনি আর বেঁচে নেই। কারা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইনি প্রক্রিয়া ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার পর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
এই ঘটনার পর কারাগারে বন্দিদের স্বাস্থ্যসেবা ও আকস্মিক জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। মানবাধিকারকর্মী ও স্বজনদের অনেকে কারাগারে বন্দিদের চিকিৎসাধীন অবস্থার নিরাপত্তা ও সময়মতো হাসপাতালে স্থানান্তরের বিষয়টি নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে, কারা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে অসুস্থতা অনুভূত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সব ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক প্রোটোকল মেনে দ্রুত তাকে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল। রাজনৈতিক সংকটের এই সময়ে কারাগারে কোনো বন্দির মৃত্যুর ঘটনা আইনি ও মানবাধিকার মহলে প্রায়শই নানা প্রশ্নের জন্ম দেয়। নুরুল ইসলামের পরিবারের সদস্যরা এই মৃত্যুর নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত দাবি করেছেন। তারা বলছেন, কারাগারে নেওয়ার আগে তিনি শারীরিকভাবে সুস্থ ছিলেন এবং মামলার কারণে দীর্ঘদিন ধরে মানসিক চাপের মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন।
রাজনৈতিক পরিচয় ও সাম্প্রতিক মামলার জেরে কারাগারে বন্দি থাকা অবস্থায় মৃত্যুর ঘটনাগুলো দেশের বিচারিক ও কারা ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। কারাগারে বন্দিদের চিকিৎসাসেবা আরও আধুনিক ও গতিশীল করা জরুরি বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে বয়স্ক বা হৃদ্রোগসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত বন্দিদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। নুরুল ইসলামের পরিবারের শোকার্ত স্বজনরা এখন শেষবারের মতো তাকে দাফন করার জন্য মিরসরাইয়ের গ্রামের বাড়িতে মরদেহ পৌঁছানোর অপেক্ষা করছেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হলে স্থানীয়ভাবে তার জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হবে।









