,

ছয় মাসে জনশক্তি রপ্তানি কমেছে ৩৮ শতাংশের বেশি

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বৈদেশিক কর্মসংস্থানের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও গত কয়েক মাসে দেশ থেকে কর্মী যাওয়ার গতিতে বড় ধরনের ভাটা পড়েছে। জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) সাম্প্রতিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চলতি বছরের নির্দিষ্ট ছয় মাসে (১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৭ আগস্ট) বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়ে গেছেন ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৪২৭ জন কর্মী। অথচ গত বছরের ঠিক একই সময়ে এই সংখ্যাটি ছিল ৫ লাখ ৪২ হাজার ৪৩৮ জন। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে দেশ থেকে জনশক্তি রপ্তানি কমেছে প্রায় ৩৮ দশমিক ৫৩ শতাংশ বা প্রায় ৩৯ শতাংশ।

প্রধান গন্তব্য ও দেশভিত্তিক পরিসংখ্যান

চলতি বছরের আলোচিত ছয় মাসে কোন দেশগুলোতে বাংলাদেশের কর্মীরা সবচেয়ে বেশি পাড়ি জমিয়েছেন, তার একটি পরিষ্কার চিত্র উঠে এসেছে বিএমইটির পরিসংখ্যানে। এই সময়ের শীর্ষ দশটি গন্তব্য দেশের চিত্র নিচে একটি টেবিলে তুলে ধরা হলো:
ক্রমগন্তব্য দেশচলতি বছরের কর্মী সংখ্যাগত বছরের একই সময়ের কর্মী সংখ্যাপ্রবণতা / পরিবর্তন
১সৌদি আরব১,৬৯,৬৪৬৩,৬১,৩৬৬উল্লেখযোগ্য হ্রাস
২সিঙ্গাপুর৪০,৩৯৮৩৬,২৫১বৃদ্ধি
৩কাতার৩২,১২৭৫৩,১৩৫হ্রাস
৪মালদ্বীপ১৫,৯৬৯১৮,২৩৭হ্রাস
৫সংযুক্ত আরব আমিরাত১৩,১২৯৫,৮৫২বৃদ্ধি
৬কুয়েত১৩,০৭১২৪,৪৪১হ্রাস
৭জর্ডান৮,১৯৯৫,৬০৮বৃদ্ধি
৮ইতালি৫,৩১৬৪,১৪০বৃদ্ধি
৯পর্তুগাল৩,৬০৮প্রযোজ্য নয়নতুন বা পরিবর্তিত ধারা
১০ইরাক২,৮৬৩প্রযোজ্য নয়নতুন বা পরিবর্তিত ধারা

বাজার সংকোচনের নেপথ্য কারণ ও চিত্র

পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বাংলাদেশের প্রধান শ্রমবাজারগুলোর মধ্যে অন্যতম সৌদি আরবে কর্মী যাওয়ার হার গত বছরের তুলনায় অর্ধেকেরও বেশি কমে গেছে। চলতি বছরে মোট বিদেশগামী কর্মীদের প্রায় ৫০ দশমিক ৮৭ শতাংশ বা ১ লাখ ৬৯ হাজার ৬৪৬ জন সৌদি আরব গেলেও গত বছর একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৬১ হাজার ৩৬৬ জন। ঐতিহ্যগতভাবে মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটির ওপর বাংলাদেশের জনশক্তি খাতের যে অতিমাত্রিক নির্ভরতা রয়েছে, তা এই পরিসংখ্যানে স্পষ্ট।
সৌদি আরবের পাশাপাশি কাতার ও কুয়েতের মতো ঐতিহ্যবাহী শ্রমবাজারেও কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পতন লক্ষ্য করা গেছে। কাতারে গত বছর যেখানে ৫৩ হাজার ১৩৫ জন কর্মী গিয়েছিলেন, সেখানে চলতি বছরে তা নেমে এসেছে ৩২ হাজার ১২৭ জনে। কুয়েতের ক্ষেত্রেও একই ধরনের নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তবে আশার কথা হলো, কিছু কিছু নতুন ও ঐতিহ্যবাহী বাজারে কর্মী যাওয়ার গতি কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। যেমন—সিঙ্গাপুর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান এবং ইতালির মতো দেশগুলোতে গত বছরের তুলনায় চলতি বছরে বেশি সংখ্যক কর্মী কাজের সুযোগ পেয়েছেন।
সামগ্রিকভাবে জনশক্তি রপ্তানিতে এই আকস্মিক ধীরগতি দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং সামগ্রিক শ্রমবাজারের স্থিতিশীলতার ওপর একধরনের চাপ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা পরিবর্তন এবং বিভিন্ন দেশের অভিবাসন নীতি কঠোর হওয়ার কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জনশক্তি রপ্তানির এই বর্তমান পরিস্থিতি বা বৈদেশিক কর্মসংস্থানের বাজার নিয়ে কি আপনি আরও কোনো তথ্য জানতে চান?
Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।