পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে ৫টা ৪০ মিনিটের মধ্যে বউবাজার এলাকায় ১০ তলা আল ফাতাহ ভবনের সামনে খালের পাড়ে মিলনের ঝুটের ডিপোর পাশে অবস্থান করছিলেন সাহেব আলী। এ সময় তার সহযোগী হিসেবে পরিচিত এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালান।
প্রথম গুলির আঘাতে সাহেব আলী পাশের একটি ড্রেনে পড়ে যান। এরপর হামলাকারী তাকে লক্ষ্য করে দ্বিতীয়বার গুলি করেন। একপর্যায়ে তার ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান ওই ব্যক্তি। আকস্মিক এ হামলায় আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে ঘটনার সময় সেখানে আর কারা উপস্থিত ছিলেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
গুলিবিদ্ধ অবস্থায় সাহেব আলীকে উদ্ধার করে তার স্বজনেরা দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত আনুমানিক ৮টার দিকে তার মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। তবে হাসপাতালের চিকিৎসা-সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য কিংবা তার শরীরের কোথায় কোথায় গুলি লেগেছিল, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানা যায়নি।
নিহত সাহেব আলী সিদ্ধিরগঞ্জের আটি ওয়াপদা কলোনি এলাকার বাসিন্দা। তিনি মৃত গিয়াস উদ্দিনের ছেলে। পুলিশ জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এসব মামলার মধ্যে হত্যা, মাদকসংক্রান্ত অপরাধ, দস্যুতা, ডাকাতির প্রস্তুতি, আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতাধীন অভিযোগ রয়েছে। সব মিলিয়ে তার বিরুদ্ধে মামলার সংখ্যা প্রায় ১৫টি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী জানান, সোমবার বিকেলে সিদ্ধিরগঞ্জের বউবাজার এলাকায় সাহেব আলী গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে তার মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। হামলাকারীকে শনাক্ত করা এবং হত্যাকাণ্ডের কারণ উদঘাটনে পুলিশ তদন্ত করছে।
তদন্তের ক্ষেত্রে হামলাকারীর সঙ্গে সাহেব আলীর সম্পর্ক, ঘটনার আগে তাদের মধ্যে কোনো বিরোধ হয়েছিল কি না এবং হামলার পেছনে ব্যক্তিগত শত্রুতা কিংবা অন্য কোনো কারণ ছিল কি না, সেসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে এসব বিষয়ে পুলিশ এখনো কোনো চূড়ান্ত বক্তব্য দেয়নি। অজ্ঞাতপরিচয় হামলাকারীকে শনাক্ত করা এবং ঘটনার প্রকৃত উদ্দেশ্য নির্ধারণে তদন্তের ফলের অপেক্ষা রয়েছে।
ঘটনাটি একটি পরিকল্পিত হামলা ছিল কি না, সে বিষয়েও এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে হামলাকারী একাই ছিলেন, নাকি তার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত ছিলেন, তা-ও স্পষ্ট নয়। পুলিশি তদন্তে এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যেতে পারে। এ ঘটনায় মামলা দায়ের, কাউকে আটক করা কিংবা হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।









