চুয়াডাঙ্গায় অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ে ট্রেনের ধাক্কায় নিহত ২

চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলায় ট্রেনের ধাক্কায় দুই মোটরসাইকেল আরোহী ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় আরও একজন আরোহী গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন, যার শরীর থেকে একটি পা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন, ২০২৬) সন্ধ্যায় দামুড়হুদা উপজেলার ছোট দুধপাতিলা এলাকায় একটি অরক্ষিত লেভেল ক্রসিং পার হওয়ার সময় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।

নিহত ও আহতের পরিচয়

রেলওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে দুর্ঘটনাকবলিত ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে:

  • নিহত রাজ আহমেদ (১৮): চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার সড়কেরবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা রফিকুল ইসলামের ছেলে।

  • নিহত আব্দুল্লাহ আল মামুন (২১): চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার মর্তুজাপুর গ্রামের বাসিন্দা তাহের আলীর ছেলে।

  • আহত আব্দুল কাদের (২৫): দামুড়হুদা উপজেলার ডুগডুগি গ্রামের বাসিন্দা রহিদুল ইসলামের ছেলে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে, এই তিন যুবক গত কয়েক মাস ধরে স্থানীয় ‘সরোজগঞ্জ কমপ্যাক্ট ইনস্টিটিউট অব স্কিল ডেভেলপমেন্ট’ নামক একটি প্রতিষ্ঠানে কারিগরি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছিলেন।

দুর্ঘটনার বিবরণ ও ট্রেনের ধাক্কা

স্থানিয় বাসিন্দা এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজ আহমেদ, আব্দুল্লাহ আল মামুন ও আব্দুল কাদের একই মোটরসাইকেলে চড়ে তাদের প্রশিক্ষণ শেষে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। পথে দামুড়হুদা উপজেলার ছোট দুধপাতিলা গ্রামের একটি অরক্ষিত লেভেল ক্রসিং অতিক্রম করার সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

মোটরসাইকেলটি যখন রেললাইন পার হচ্ছিল, ঠিক সেই মুহূর্তে খুলনা থেকে রাজশাহী অভিমুখে ছেড়ে আসা ডাউন ‘মহানন্দা এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি সেখানে পৌঁছে যায় এবং দ্রুতগতিতে তাদের মোটরসাইকেলটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। ট্রেনের ধাক্কায় মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে লাইনের পাশে ছিটকে পড়ে। ট্রেনের প্রচণ্ড আঘাতে ও গুরুতর জখম হওয়ার কারণে রাজ আহমেদ ও আব্দুল্লাহ আল মামুন ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।

আহতের উদ্ধার ও উন্নত চিকিৎসা

দুর্ঘটনার সময় মোটরসাইকেলের অপর আরোহী আব্দুল কাদের ছিটকে পড়ে গুরুতরভাবে জখম হন এবং ট্রেনের চাকায় বা আঘাতের তীব্রতায় তাঁর শরীর থেকে একটি পা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। দুর্ঘটনার বিকট শব্দ শুনে ছোট দুধপাতিলা গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তারা তাৎক্ষণিকভাবে চুয়াডাঙ্গা ফায়ার সার্ভিস ও দর্শনা ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করেন।

খবর পেয়ে দর্শনা ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকর্মীরা এবং স্থানীয় লোকজন রক্তাক্ত অবস্থায় আব্দুল কাদেরকে উদ্ধার করে দ্রুত চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন। তবে তাঁর শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটায় এবং বিচ্ছিন্ন পায়ের উন্নত চিকিৎসার সুবিধার্থে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে জরুরি ভিত্তিতে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে (নিটোর) স্থানান্তর বা রেফার্ড করার পরামর্শ দেন। চিকিৎসকদের নির্দেশনা অনুযায়ী তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

আইনি পদক্ষেপ ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া

রেললাইনের ওই অংশটিতে কোনো গেটম্যান বা স্বয়ংক্রিয় প্রতিবন্ধক (বার) না থাকায় এটি দীর্ঘদিন ধরে অরক্ষিত অবস্থায় ছিল বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। অরক্ষিত ক্রসিং পার হতে গিয়েই এই প্রাণহানির ঘটনাটি ঘটেছে। চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ে ফাঁড়ি পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) জগদীশ চন্দ্র বসু দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান, ট্রেনের ধাক্কায় দুই মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যুর খবর পেয়ে রেলওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল পরিদর্শন করেছে। নিহতদের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতসহ এই ঘটনার যাবতীয় আইনি প্রক্রিয়া ও দাপ্তরিক বিষয়সমূহ বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।