জিলাইভ [ GLive ] | truth alone triumphs

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে বেশি দামে ২ লাখ ২০ হাজার টন গম কিনছে সরকার

আন্তর্জাতিক বাজারের বর্তমান দরের চেয়ে কিছুটা বেশি মূল্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন গম আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। একই সাথে সিঙ্গাপুরের একটি প্রতিষ্ঠান থেকেও জরুরি ভিত্তিতে ৫০ হাজার মেট্রিক টন গম কেনার আরেকটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১ জুলাই) সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সর্বশেষ বৈঠকে এই দুটি পৃথক প্রস্তাবের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং দেশের বাজারে গমের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এই আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই দুই উৎস থেকে মোট ২ লাখ ৭০ হাজার টন গম আমদানিতে সরকারের মোট ব্যয় হবে ১ হাজার ৫২ কোটি ৪০ লাখ ৯৪ হাজার টাকা।

জি-টু-জি চুক্তির আওতায় ধারাবাহিক আমদানি

খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে মূলত সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) চুক্তির আওতায় এই গম কেনা হচ্ছে। এটি কোনো আকস্মিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং দ্বিপাক্ষিক চুক্তির ধারাবাহিকতারই অংশ। এর আগেও এই ব্যবস্থার অধীনে চারটি পৃথক চালানে মোট ২ লাখ ৩৯ হাজার ৫৮৬ মেট্রিক টন গম দেশে এসেছে। পূর্ববর্তী চালানগুলোর আমদানির পরিমাণ ছিল নিম্নরূপ:

  • প্রথম চালান: ৫৬ হাজার ৯৫৯ মেট্রিক টন

  • দ্বিতীয় চালান: ৬০ হাজার ৮০২ মেট্রিক টন

  • তৃতীয় চালান: ৬০,৮৭৫ মেট্রিক টন

  • চতুর্থ চালান: ৬০ হাজার ৯৫০ মেট্রিক টন

চলতি বছরেও এই একই প্রক্রিয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে কয়েক দফায় গম আমদানি করে সরকারি মজুত ঠিক রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে এবারের চালানে আন্তর্জাতিক বাজারদরের চেয়ে বাড়তি মূল্য গুণতে হওয়ায় সংশ্লিষ্ট মহলে কিছুটা আলোচনা ও গুঞ্জনের তৈরি হয়েছে।

বহুমাত্রিক উৎস থেকে গম সংগ্রহ

বাংলাদেশ কেবল নির্দিষ্ট একটি দেশের ওপর নির্ভর না করে গম আমদানির ক্ষেত্রে বহুমাত্রিক উৎস ব্যবহারের নীতি অনুসরণ করে আসছে। জি-টু-জি চুক্তির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমেও নিয়মিত গম সংগ্রহ করা হয়। গমের গুণগত মান, বৈশ্বিক বাজারদর, পরিবহন খরচ এবং দ্রুত সরবরাহের সুবিধা বিবেচনা করে বিভিন্ন সময়ে বৈচিত্র্যময় উৎস থেকে খাদ্যশস্য কেনা হয়ে থাকে।

আমদানির তালিকায় থাকা প্রধান দেশগুলো হলো: ১. রাশিয়া ২. কানাডা ৩. অস্ট্রেলিয়া ৪. রোমানিয়া ৫. ইউক্রেন ৬. আর্জেন্টিনা ৭. কাজাখস্তান

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, কোনো একক দেশের বাজারে ভূ-রাজনৈতিক বা প্রাকৃতিক কারণে সংকট তৈরি হলে যেন দেশের খাদ্য নিরাপত্তায় বিঘ্ন না ঘটে, সেজন্যই এই বহুমুখী উৎস সচল রাখা জরুরি। তবে বিশ্ববাজারে তুলনামূলক কম দামে গম পাওয়া গেলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে উচ্চমূল্যে কেনা এবং এর যৌক্তিকতা নিয়ে এখন চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে।

Tags :

বাংলা ডেস্ক । GLive24.com

সর্বশেষ খবর