ভারতের কলকাতায় একটি অগ্নিকাণ্ডে কুষ্টিয়ার সাংবাদিক ও নাগরিক টেলিভিশনের সাবেক জেলা প্রতিনিধি দেবাশীষ দত্ত, তাঁর স্ত্রী, দুই বছর বয়সী সন্তান এবং শ্বশুরসহ একই পরিবারের চারজন নিহত হয়েছেন। মর্মান্তিক এ ঘটনায় কুষ্টিয়ায় তাঁর স্বজন, সহকর্মী ও পরিচিতজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহতরা হলেন সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত, তাঁর স্ত্রী আফসানা শারমিন (২৫), তাঁদের দুই বছর বয়সী শিশুসন্তান শর্ণশিষ দত্ত এবং দেবাশীষের শ্বশুর মো. আকরাম আলী (৬৪)। আকরাম আলীর বাড়ি কুষ্টিয়া শহরের থানাপাড়ায়। সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত কুষ্টিয়া শহরের আরওয়া পাড়ার বাসিন্দা দিলীপ দত্তের ছেলে।
পরিবারের সদস্যদের বরাতে জানা গেছে, গত ৩ আগস্ট স্ত্রী আফসানা শারমিনের চিকিৎসার জন্য দেবাশীষ ভারতে যান। চিকিৎসার উদ্দেশ্যে তাঁরা বেঙ্গালুরুর নারায়ণন হাসপাতালে গিয়েছিলেন। এ সময় তাঁদের ছয় বছর বয়সী কন্যাসন্তান মহিমা দত্তকে দেশে রেখে যাওয়া হয়। চিকিৎসা শেষে তাঁরা কলকাতায় ফিরেছিলেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। কলকাতায় ফেরার পরই অগ্নিকাণ্ডের মর্মান্তিক ঘটনায় তাঁদের মৃত্যু হয়।
দেবাশীষ দত্ত কুষ্টিয়ার সাংবাদিকতা অঙ্গনে পরিচিত মুখ ছিলেন। তিনি জাতীয় দৈনিক আজকের পত্রিকা-এ কাজ করেছেন। পাশাপাশি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল নাইন-এর সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। কুষ্টিয়ার স্থানীয় দৈনিক আজকের আলো পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। পরে তিনি নাগরিক টেলিভিশনের কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
দীর্ঘ সময় ধরে স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমে কাজ করার সুবাদে কুষ্টিয়ার সংবাদমাধ্যমে তাঁর একটি পরিচিতি তৈরি হয়েছিল। বিভিন্ন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে তিনি স্থানীয় নানা ঘটনা ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় সংবাদে তুলে ধরেছেন।
স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য ভারতে যাওয়া এবং চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরার পথেই পরিবারের চার সদস্যের এমন মর্মান্তিক মৃত্যু স্বজনদের জন্য গভীর শোকের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে ছয় বছর বয়সী কন্যাসন্তান মহিমা দত্তকে দেশে রেখে পরিবারের অন্য সদস্যদের এভাবে হারানোর ঘটনা স্বজনদের মধ্যে আরও বেদনাবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।
অগ্নিকাণ্ডে একই পরিবারের চার সদস্যের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর কুষ্টিয়ার সাংবাদিক মহলেও শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। দেবাশীষের সহকর্মীরা তাঁর কর্মজীবন ও সাংবাদিকতায় অবদানের কথা স্মরণ করছেন। কলকাতায় ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডে তাঁর পরিবারে নেমে এসেছে অপূরণীয় ক্ষতি।









