খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২ই জুলাই ২০২৬, ৩:৩৪ পিএম

দেশের ভোক্তাদের জন্য স্বস্তির খবর এসেছে রান্নার জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) বাজারে। সরকার ১২ কেজি ওজনের এলপিজি সিলিন্ডারের নতুন মূল্য নির্ধারণ করেছে ১ হাজার ৫২৮ টাকা, যা আগের নির্ধারিত দামের তুলনায় ৩৫৭ টাকা কম। নতুন এই মূল্য দেশের বেসরকারি পর্যায়ের এলপিজি ব্যবহারকারীদের জন্য প্রযোজ্য হবে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেল ৩টায় রাজধানীর রমনায় ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (আইইবি) শহিদ প্রকৌশলী ভবনের ষষ্ঠ তলায় বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কমিশন কার্যালয়ের শুনানি কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নতুন এই মূল্য ঘোষণা করা হয়।
নতুন মূল্য ঘোষণার ফলে যেসব পরিবার পাইপলাইনের গ্যাসের পরিবর্তে সিলিন্ডারভিত্তিক এলপিজির ওপর নির্ভরশীল, তারা আগের তুলনায় কম খরচে গ্যাস কিনতে পারবেন। বিশেষ করে শহর ও গ্রামীণ এলাকার বিপুলসংখ্যক পরিবার, ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন খাদ্যসেবা প্রতিষ্ঠান এই মূল্যহ্রাসের সুবিধা পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এর আগে গত ২ জুন বিইআরসি ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৯৪০ টাকা থেকে কমিয়ে ১ হাজার ৮৮৫ টাকা নির্ধারণ করেছিল। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে আবারও দাম কমানো হলো, এবার আগের দামের তুলনায় আরও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে।
একই সঙ্গে বিইআরসি সর্বশেষ মূল্য সমন্বয়ের সময় যানবাহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দামও কমিয়েছিল। তখন প্রতি লিটার অটোগ্যাসের মূল্য ৮৯ টাকা ৫০ পয়সা থেকে কমিয়ে ৮৬ টাকা ৯৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়। নতুন সংবাদ সম্মেলনে মূলত এলপিজির সংশোধিত মূল্য ঘোষণা করা হয়েছে।
বাংলাদেশে প্রতি মাসেই আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির আমদানি মূল্য, পরিবহন ব্যয়, ডলার বিনিময় হার এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ব্যয় বিবেচনায় এলপিজির দাম পুনর্নির্ধারণ করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য কমলে তার প্রভাব দেশীয় বাজারেও পড়ে, আবার মূল্য বৃদ্ধি পেলে স্থানীয় বাজারেও তার প্রতিফলন দেখা যায়।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, এলপিজির দাম কমার ফলে সাধারণ ভোক্তাদের মাসিক গৃহস্থালি ব্যয়ে কিছুটা স্বস্তি আসতে পারে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় প্রাকৃতিক গ্যাসের সংযোগ নেই এবং পুরোপুরি এলপিজির ওপর নির্ভর করতে হয়, সেখানে এই মূল্যহ্রাস সরাসরি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। একই সঙ্গে ছোট রেস্তোরাঁ, চায়ের দোকান ও অন্যান্য ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার পরিচালন ব্যয়ও কিছুটা কমতে পারে।
তবে ভোক্তারা যাতে সরকারি নির্ধারিত মূল্যের বেশি দামে এলপিজি কিনতে বাধ্য না হন, সে জন্য বাজারে কার্যকর নজরদারি বজায় রাখার ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। নির্ধারিত দামে সিলিন্ডার সরবরাহ নিশ্চিত হলে নতুন মূল্যহ্রাসের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে দ্রুত পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মন্তব্য