দল হিসেবে রাজস্থান রয়্যালস এবারের আইপিএলের শিরোপা জিততে পারেনি, এমনকি ফাইনালেও জায়গা করে নিতে পারেনি। তবে দলীয় সাফল্যের অভাব ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে কোনো প্রভাব ফেলেনি বৈভব সূর্যবংশীর ওপর। মাত্র ১৫ বছর বয়সী এই ব্যাটার অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়ে ২০২৬ মৌসুমে একাই পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার জিতে নতুন ইতিহাস গড়েছেন।
পুরো টুর্নামেন্টে ধারাবাহিক ব্যাটিং করে সূর্যবংশী সর্বোচ্চ ৭৭৬ রান সংগ্রহ করেন। এর সুবাদে তিনি জিতেছেন অরেঞ্জ ক্যাপ। শুধু রান করাই নয়, আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়েও ছিলেন অনন্য। ১৬ ইনিংসে তাঁর স্ট্রাইক রেট ছিল ২৩৭.৩০, যা তাঁকে এনে দিয়েছে ‘সুপার স্ট্রাইকার অব দ্য সিজন’ পুরস্কার।
এ ছাড়া টুর্নামেন্টজুড়ে ৭২টি ছক্কা হাঁকিয়ে তিনি হয়েছেন সর্বাধিক ছক্কার মালিক। সেই কৃতিত্বের জন্য তাঁর ঝুলিতে গেছে ‘সুপার সিক্সেস অব দ্য সিজন’ পুরস্কারও।
তবে সূর্যবংশীর অর্জনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক দুটি হলো ‘মোস্ট ভ্যালুয়েবল প্লেয়ার (এমভিপি)’ এবং ‘বেস্ট ইমার্জিং প্লেয়ার’ পুরস্কার লাভ। আইপিএলের ইতিহাসে তিনিই প্রথম ক্রিকেটার, যিনি একই মৌসুমে এই দুটি মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি একসঙ্গে অর্জন করেছেন।
আরেকটি উল্লেখযোগ্য পরিসংখ্যানও তাঁর নামের পাশে যুক্ত হয়েছে। ২০১১ সালে ক্রিস গেইলের পর সূর্যবংশীই প্রথম খেলোয়াড়, যিনি একটি মৌসুমে একই সঙ্গে সর্বাধিক রান সংগ্রাহক এবং সর্বোচ্চ স্ট্রাইক রেটধারী হয়েছেন (ন্যূনতম ২০ বল খেলার শর্তে)। পাশাপাশি তাঁর ৭২টি ছক্কা আইপিএলের এক মৌসুমে সর্বাধিক ছক্কার নতুন রেকর্ড গড়েছে। এর আগে এই রেকর্ড ছিল ক্রিস গেইলের, যিনি এক মৌসুমে ৫৯টি ছক্কা মেরেছিলেন।
বৈভব সূর্যবংশীর পুরস্কার ও অর্জন
| পুরস্কার/অর্জন | পরিসংখ্যান |
|---|---|
| অরেঞ্জ ক্যাপ | ৭৭৬ রান |
| সুপার স্ট্রাইকার অব দ্য সিজন | স্ট্রাইক রেট ২৩৭.৩০ |
| সুপার সিক্সেস অব দ্য সিজন | ৭২টি ছক্কা |
| মোস্ট ভ্যালুয়েবল প্লেয়ার (এমভিপি) | টুর্নামেন্টের সেরা মূল্যবান খেলোয়াড় |
| বেস্ট ইমার্জিং প্লেয়ার | মৌসুমের সেরা উদীয়মান ক্রিকেটার |
| বিশেষ রেকর্ড | একই মৌসুমে এমভিপি ও উদীয়মান খেলোয়াড় পুরস্কার জয়ী প্রথম ক্রিকেটার |
| বিশেষ রেকর্ড | এক মৌসুমে ৭২ ছক্কা, নতুন আইপিএল রেকর্ড |
ব্যক্তিগতভাবে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করলেও সূর্যবংশীর রাজস্থান রয়্যালস শিরোপার লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত এগোতে পারেনি। দলটি দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে গুজরাটের কাছে পরাজিত হয়ে বিদায় নেয়। ফলে ফাইনালে খেলার সুযোগ হয়নি রাজস্থানের।
অন্যদিকে আহমেদাবাদে অনুষ্ঠিত ফাইনালে গুজরাটকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বিরাট কোহলির রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু।
রাজস্থান ফাইনালে না থাকলেও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সবচেয়ে আলোচিত নাম ছিলেন সূর্যবংশী। একাই পাঁচটি পুরস্কার গ্রহণ করতে মঞ্চে ওঠেন তিনি। এমভিপি নির্বাচিত হওয়ার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে এই কিশোর ক্রিকেটার বলেন, ভালো লাগছে, যদিও সাক্ষাৎকার দেওয়ার কারণে কিছুটা চাপও অনুভব করছেন। তাঁর ভাষায়, এটি তাঁর জন্য গর্বের একটি মুহূর্ত এবং আগামী মৌসুমেও তিনি ভালো করার চেষ্টা করবেন।
নিজের আক্রমণাত্মক ব্যাটিং দর্শন সম্পর্কে সূর্যবংশী জানান, তিনি সহজাত খেলাটাই খেলার চেষ্টা করেন। কোনো বল আক্রমণ করার উপযুক্ত জায়গায় থাকলে সেটির পুরো সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং সেই মানসিকতা নিয়েই তিনি ব্যাটিং করে থাকেন। তাঁর এই স্বাভাবিক ও নির্ভীক ব্যাটিং পদ্ধতিই এবারের আইপিএলে তাঁকে সবচেয়ে সফল এবং আলোচিত ক্রিকেটারদের একজন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
