ইসরায়েলি হামলায় দক্ষিণ লেবাননে নিহত ১৬ জন

দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি বিমান ও ড্রোন হামলায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় চিকিৎসা সূত্র ও গণমাধ্যমের বরাতে জানানো হয়েছে, এসব হামলায় আহত হয়েছেন আরও ১৫ জনের বেশি মানুষ। চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া সংঘাতের পর দেশটিতে মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৪২ জনে। একই সময়ে আহত মানুষের সংখ্যা বেড়ে ৯ হাজার ৩০১ জনে পৌঁছেছে।

সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলাটি ঘটে টাইর জেলার দেইর কানুন আল-নাহর শহরে। সেখানে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান থেকে চালানো আঘাতে নারী ও শিশুসহ ১০ জন নিহত হন। স্থানীয় চিকিৎসা সূত্র জানিয়েছে, বিস্তৃত ধ্বংসযজ্ঞের কারণে ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কেউ আটকে আছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

অন্যদিকে কফারসির শহরের আল-মাহফারা এলাকায় একটি আবাসিক ভবনে বিমান হামলায় ভবনটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়। এতে ওই ভবনের বাসিন্দা দুই নারীসহ চারজন নিহত হন। পাশাপাশি নাবাতিয়েহ জেলার হারুফ শহরে পৌর ভবনের কাছে এবং বিনত জবেইল জেলার ফ্রুন শহরে একটি মোটরসাইকেল লক্ষ্য করে পৃথক ড্রোন হামলা চালানো হয়। এসব হামলায় আরও দুইজন নিহত হন।

একই দিনে দক্ষিণ লেবাননের কফাররিমান, কাফরা, কফারদৌনিন, আল-শাহাবিয়া, আল-রাইহান, জাওতার আল-শারকিয়া, আল-কুসাইবা, দেইব্বিন, মারাকা, আল-বাজুরিয়া, আল-মাজাদেল, আল-হাউশ-টাইর এলাকা এবং নাবাতিয়েহ শহরের বিভিন্ন অংশে ধারাবাহিক বিমান হামলা চালানো হয়।

এর জবাবে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, তারা ইসরায়েলি সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। সংগঠনটির ভাষ্য অনুযায়ী, দোভিভ বসতিতে অবস্থানরত সেনাদের ওপর এবং মিসগাভ আম এলাকায় একটি সামরিক যান লক্ষ্য করে আত্মঘাতী ড্রোন হামলা চালানো হয়। ইসরায়েলি সূত্রেও জানানো হয়েছে, মিসগাভ আমের কাছে একটি গাড়িতে হামলায় একজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

হিজবুল্লাহ আরও দাবি করেছে, তারা তাইবেহ শহরে ইসরায়েলি বাহিনীর একটি সামরিক যোগাযোগযান লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি রেশাফ এলাকায় সেনা ও সামরিক যান সমাবেশ লক্ষ্য করে রকেট নিক্ষেপ করা হয়েছে। সংগঠনটি আরও জানায়, উত্তর ইসরায়েলের আরব আল-আরামশে গ্রামের পশ্চিমে এবং রাস আল-নাকৌরা নৌঘাঁটিতে আত্মঘাতী ড্রোনের মাধ্যমে হামলা চালানো হয়েছে। এছাড়া জাল আল-আলাম এলাকায় একটি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংসের দাবিও করেছে তারা।

লেবানন সীমান্তে চলমান সংঘাতের মধ্যে ইসরায়েলি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই সময়ে অন্তত ১ হাজার ৪৩ জন ইসরায়েলি সেনা ও সাধারণ সদস্য আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ৫৯ জনের অবস্থা গুরুতর এবং ১২২ জন মাঝারি ধরনের আঘাত নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

নিচে সামগ্রিক হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো—

বিষয়সংখ্যা
দক্ষিণ লেবাননে সাম্প্রতিক হামলায় নিহত১৬ জন
সাম্প্রতিক হামলায় আহত১৫ জনের বেশি
২ মার্চ থেকে মোট নিহত৩ হাজার ৪২ জন
২ মার্চ থেকে মোট আহত৯ হাজার ৩০১ জন
ইসরায়েলি আহত (সীমান্ত সংঘাতে)১ হাজার ৪৩ জন
গুরুতর আহত ইসরায়েলি৫৯ জন
মাঝারি আহত ইসরায়েলি১২২ জন

এই ধারাবাহিক হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনায় দক্ষিণ লেবানন ও সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে, যেখানে একাধিক এলাকায় উদ্ধার ও প্রতিরক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।